প্রধান সূচি

এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা সিআইডিতে

পিরোজপুরে প্রতারণা ও জালিয়াতি মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ হেডকোয়াটারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে দায়ের করা অর্থ আত্মসাতের মামলা তদন্তকাজ সিআইডি’র উপর ন্যাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পিরোজপুর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রবিবার উক্ত মামলাসমূহের যাবতীয় কাগজপত্র সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা সিআইডি তদন্ত করবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে।

প্রতারণা ও জালিয়াতি মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে পিরোজপুরে এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করে গা’ঢাকা দেওয়া এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান ও তার তিন ভাইকে গত ৯ সেপ্টেম্ব গ্রেফতার করে আইন শৃংখলা বাহিনী। এদিন সন্ধ্যায় ঢাকার তোফখানা এলাকা থেকে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান এবং তার ভাই ও প্রতিষ্ঠানের সহ-পরিচালক আবুল বাশারকে গ্রেফতার র‌্যাব-১০। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সদস্য ও তার অপর দুই ভাই মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও মো. খাইরুল ইসলামকে একই দিন বিকেলে পিরোজপুর সদর উপজেলার খলিশাখালী গ্রামের নিজ বাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পিরোজপুর থানার পুলিশ।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত একটি মামলায় এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব আহসানসহ আটক তার অপর তিন ভাইকে ৭ দিনের রিমান্ডে এনে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পিরোজপুর সদর থানার পুলিশ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর তাদের রিমান্ডে নেয় পিরোজপুর সদর থানার পুলিশ।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ওসি আ. জ. মো. মাসুদুজ্জামান জানান, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় রাগীব আহসান ও তার তিন ভাইকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করলে বিজ্ঞ আদালত ৭ দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাদেরকে পিরোজপুর সদর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে রাগীব আহসান এহসান গ্রুপের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৪৫ পকপল ১৫০ কোটি টাকা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, শরিয়তসম্মত সুদবিহীন বিনিয়োগে উচ্চ মুনাফা দেওয়ার নামে মাওলানা রাগীব আহসান বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং মাদ্রাসা শিক্ষকদের এহসান গ্রুপের ফিল্ড অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের গ্রাহক তৈরী করতো এহসান গ্রুপ। এছাড়া এহসান গ্রুপের নামে প্রতিষ্ঠা করা নূর-ই মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট একাডেমি, জামিয়া আরাবিয়া নূরজাহান মহিলা মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বাধ্য করা হতো এহসান গ্রুপের গ্রাহক হতে। অন্যদিকে, এহসান গ্রুপে আমানত রাখার জন্য ধর্মভীরু মানুষকে প্রলুদ্ধ করতে দেশ-বিদেশের আলেম উলামাদের এনে ওয়াজ মাহফিল করে এহসান গ্রুপের পক্ষে সাফাই করা হতো।

এভাবে পিরোজপুর, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের লক্ষাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে এককালীন আমানত ও মাসিক কিস্তিতে আমানত নিয়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব আহসান ও তার সহযোগীরা বলে জানা গেছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial