প্রধান সূচি

মঠবাড়িয়ায় সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় আপন ভাইয়ের নেতৃত্বে বোন-ভগ্নিপতিকে বেঁধে রেখে ত্রানের ঘর নির্মাণ ॥ চাঁদা দাবী

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া গ্রামে আপন ভাইয়ের নেতৃত্বে বৃদ্ধ বোন-ভগ্নিপতিকে এক দড়িতে বেঁধে নিপীড়ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হত্যার হুমকি দিয়ে সেখানে জোর করে ত্রাণের ঘর নির্মাণ, চাঁদা দাবী এবং অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ১৩ নভেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এ সংহিসতায় আতংকগ্রস্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি নিরাপত্তা ও প্রতিকার চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জমির মালিক পক্ষ ইউসুফ আলী খানের মেয়ে খাদিজা বেগম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার বাবা মো. ইউসুফ আলী খান তার মা কুলসুম বেগমসহ আমার দুই ভাইর নামে আমার নানার দুই বোনের কাছ থেকে .৭৯ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করে সপরিবারে বসতঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু তার মামা আনোয়ার ফকির গং আন্যায়ভাবে আমাদেরকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করার নানা রকম ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। তারা দলবল নিয়ে প্রায়ই গালাগালি ও হুমকি দেয়াসহ সম্পত্তির সোয়া চার লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ জোরপূর্বক কেটে নিয়া যায়। এ ঘটনায় তার মা কুলসুম বেগম মঠবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। এই মামলার পর প্রতিপক্ষ আরো ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে হয়রানী ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। যার ফলে তার মা মঠবাড়িয়া সহকারী জজ আদালতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানী মামলা করলে আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা আদেশ পান। পেশী শক্তিতে বলিয়ান প্রতিপক্ষ আমাদের সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য নতুন কৌশল অবলম্বন করেন। তাদের ভোগ দখলীয় সম্পত্তিতে জোর করে প্রতিপক্ষ ঘর নির্মাণের কৌশল হিসাবে ত্রাণের ঘর নির্মাণ করেন। তাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তিতে বেআইনী ও অন্যায়ভাবে ঘর নির্মাণের সময় আনোয়ার ফকিরের যোগসাজসে স্থানীয় ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. কাইয়ুম হাওলাদারের নেতৃত্বে লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে গত শুক্রবার সকালে সহিংসতা ঘটায়। এ সময় জোর করে ত্রাণের ঘর নির্মাণ শুরু করলে অভিযোগকারী খাজিদার মা-বাবা বাঁধা দেন। তখন প্রতিপক্ষ তার বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে এক দড়িতে বেঁধে হত্যার হুমকি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। এসময় তাদের আর্তচিৎকারে তার বড় মামা আব্দুল কাদের ফকিরসহ স্থানীয় লোকজন এসে উদ্ধার করেন।
এদিকে পারিবারিক কারণে খাদিজা ও তার দুই ভাইসহ খুলনায় বসবাস করেন। ঘর নির্মানের দিন তারা মঠবাড়িয়া পুলিশকে মুঠোফোনে অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থানে আসে। পরের দিন প্রতিপক্ষ আবারও ঘর নির্মাণ শুরু করলে ৯৯৯ এ জরুরী সেবা পেতে ফোন করলে পুলিশ সদস্যরা পূনরায় ঘটনাস্থলে আসে। কিন্তু প্রতিপক্ষ এখনও সেই ত্রাণের ঘরে অবস্থান করছেন।
এ ব্যাপারে গত ১৫ নভেম্বর খাদিজার মা পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসক এ ব্যাপারে প্রতিকারের আশ্বাস দেন। খাদিজা বেগম জানান, বর্তমানে তার বাবা মো. ইউসুফ আলী খান ও মা কুলসুম বেগমসহ তারা প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী হামলা ও হয়রানির ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।
এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়ার বড় মাছুয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। আমাকে ইউএনও সাহেব তদন্তের দায়িত্ব দিলে আমি তাদেরকে চার বার নোটিশ করি কিন্তু তারা উপস্থিত হয়নি। পরে আমি কাগজপত্রের ভিত্তিতে আনোয়ার ফকিরের সেখানে জমি আছে বলে রিপোর্ট দেই।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial