প্রধান সূচি

পিরোজপুরে বন্দোবস্ত নেয়া অর্পিত সম্পত্তিতে পাকা দোতলা ভবন

পিরোজপুরে বন্দোবস্ত নেয়া অর্পিত সম্পত্তির জমিতে সরকারী নিয়ম লংঘন করে পাকা দোতলা ভবন নির্মান করা করা হয়েছে। উত্থাপিত এ সংক্রান্ত অভিযোগটি সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা এক ইউপি চেয়ারম্যানে ছেলের বিরুদ্ধে। শহরতলীর হিন্দু প্রধান এলাকার ভিন্ন সম্প্রদায়ের কারও কাছে অর্পিত সম্পত্তি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারী বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু নিয়ম ভঙ্গ করে কিভাবে মুসলিম ধর্মের উক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলের নামে এ অর্পিত সম্পত্তি বন্দোবস্ত দেয়া হলো তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, পিরোজপুর পৌর এলাকার ৬৪নং মাছিমপুর মৌজার ২৮৬নং খতিয়ানের ১২৬৫নং দাগের মাছিমপুর মন্ডলপাড়ার ০.০৫৩৭ একর সম্পত্তি বাংলা ১৪২৫ সালে (ইংরেজি ২০১৮) বন্দোবস্ত নেন পিরোজপুর সদর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতি চাঁন মিয়া মাঝির ছেলে মুরাদ হোসেন মাঝি। উক্ত সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন বসবাসকারী উত্তম কুমার মন্ডলের পরিবারকে বিতাড়িত করে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা মন্ডল পাড়ায় মুরাদ হোসেন বন্দোবস্ত নেন। সরকারের ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল-১৯৯০ এর ২৯০ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে, “অর্পিত সম্পত্তি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যাপারে সম্পত্তির সাবেক মালিকের অংশিদারদের অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে এবং বসতবাড়ি/ঘর বসবাসকারীদের সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য কোন সম্প্রদায়ের লোককে বন্দোবস্ত দেওয়া যাইবে না।” অর্পিত সম্পত্তি বন্দোবস্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারী এ বিধিবিধান থাকলেও রহস্যজনক কারণে মুসলিম সম্প্রদায়ের মুরাদ হোসেকে হিন্দ্র সম্প্রদায়ের বসবাসকারী লোকজনের এলাকায় বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যাপারে নিয়ম অনুযায়ী সম্পত্তিতে বসবাসকারী পূর্ববর্তী মালিকের অংশিদার বা আত্মীয় স্বজনকেও কোন প্রকার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।
এদিকে, এক বছরের জন্য অর্পিত সম্পত্তি বন্দোবস্ত নিয়ে নিয়ম বর্হিভূতভাবে সেখানে আরসিসি (ঢালাই) বীম ও কলাম এবং সিড়ি করে পাকা দোতলাটিনশেড বিল্ডিং করেছেন মুরাদ হোসেন। অন্যদিকে, বন্দোবস্তকৃত সম্পত্তি অন্য কোন ব্যক্তির কাছে সাবলীজ বা ভাড়া না দেওয়ার বিধিবিধান থাকলেও মুরাদ হোসেন তার তৈরীকৃত দোতলা বিল্ডিং এর একটি অংশ সাবলীজ দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাছিমপুর মৌজার মন্ডলপাড়া এরাকায় যে অর্পিত সম্পত্তি মুরাদ হোসেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নেয়া সম্পত্তিতে বসবাসকারী উত্তম কুমার মন্ডলকে প্রভাব খাটিয়ে উক্ত সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করেছেন। এমনকি এ উক্ত সম্পত্তি মুরাদ হোসেকে বন্দোবস্ত দিলে তার (উত্তম মন্ডল) কোন আপত্তি নেই বলেও তার কাছ থেকে ৩শ’ টাকার জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছেন নতুন বন্দোবস্ত গ্রহীতা মুরাদ হোসেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও পিতার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মুরাদ হোসেন উক্ত অর্পিত সম্পত্তি বন্দোবস্ত নিয়েছেন। পরে সেখানে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা থেকে কাঁচা ঘর নির্মানের অনুমতি নিয়ে পাকা দোতলা দালান করে একটি অংশ অন্য লোককে ভাড়া দিয়ে আর্থিকভাবে নিজে লাভবান হচ্ছেন।
এদিকে, অর্পিত সম্পত্তি বন্দোবস্ত নিয়ে সেখানে দোতলা টিনশেড দালান করা নিয়ে অভিযোগ উঠলে এবং মুরাদ হোসেন তার বন্দোবস্ত নেওয়া সম্পত্তি নবায়ন (ডিসিআর) করতে গেলে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্তে যান। এ সময় অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ পায়। এ ঘটনার পরে বর্তমানে মুরাদ হোসেন তার বন্দোবস্তকৃত সম্পত্তি নবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে চলছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিষয়ে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, অর্পিত সম্পত্তি বন্দোবস্ত নিয়ে সেখানে দালান বা পাকা কোন স্থাপনা করার নিয়ম বা সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সংবাদিকদের জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বন্দোবস্ত গ্রহীতা মুরাদ হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতিই নিয়েই আধা-পাকা দালান করা হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial