পিরোজপুরে সংখ্যালঘু পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখল করে রাখার অভিযোগ
পিরোজপুর পৌর এলাকার বাইপাস সড়কের সার্জিকেয়ার ক্লিনিকের সামনে অবস্থিত পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত একটি জমি ভোগ দখল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিপ্লব মিস্ত্রি নামে একটি সংখ্যালঘু পরিবার। তার প্রতিবেশী সেকেন্দার আলী সিকদার সম্পত্তি জবর দখল করার লক্ষে একের পর এক মামলা মোকদ্দমা দিয়ে হয়রানী করে চলছে বলে অভিযোগ করেন বিপ্লব মিস্ত্রি।
আজ বুধবার পিরোজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব মিস্ত্রি লিখিত বক্তব্যে বলেন, পিরোজপুর পৌর শহরের মাছিমপুর বাইপাস সড়ক সংলগ্ন জে.এল ৬৪নং মৌজায় এস.এ. ১৩১নং খতিয়ানে ৯৬৯নং দাগের মোট ৩৩ শতক সম্পত্তির মালিক ছিলেন তার পিতা বিনোদ বিহারী মিস্ত্রি। উক্ত সম্পত্তি থেকে তার পিতা পিরোজপুর সদর উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামের সেকেন্দার আলী সিকদারের কাছে ১০ শতক এবং আনছার উদ্দিন আহম্মেদের কাছে ১৫ শতক সম্পত্তি বিক্রি করেন। বাকী ৮ শতক সম্পত্তি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে বিপ্লব মিস্ত্রিসহ তারা ৫ ভাই দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিল। পরবর্তীতে সেকেন্দার আলী সিকদারের ক্রয়কৃত ১০ শতক সম্পত্তি থেকে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৮ শতক সম্পত্তি রাস্তার জন্য অধিগ্রহণ করে। সরকারী অধিগ্রহণ করা উক্ত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারের কাছে সেকেন্দার আলী সিকদার টাকাও উত্তোলন করে নেন। সরকারী অধিগ্রহণের পরে সেকেন্দার আলী সিকদারের অবশিষ্ট সম্পত্তি রয়েছে মাত্র দুই শতক। কিন্তু আমার পিতার মৃত্যুর পরে সেকেন্দার আলী সিকদার আমার (বিপ্লব) পিতার কাছ থেকে ক্রয়কৃত সম্পত্তির দলিলমূলে আমার পিতার বাকী ৮ শতক সম্পত্তিও দখলে নিয়ে গ্রাস করার কুটকৌশল করে চলছে এবং হয়রানীমূলক মামলা দিয়ে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অপপ্রয়াশ চালাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে দেশত্যাগের হুমকি দিয়ে চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব মিস্ত্রি আরও বলেন, পিতার মৃত্যুর পরে আমাদের টাকার প্রয়োজন হলে অন্য ৪ ভাই এর কাছ থেকে আমমোক্তার নামা নিয়ে পৈত্রিক ৮ শতক সম্পত্তি সদর উপজেলার দক্ষিণ কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাই হাওলাদারের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। এর পরেই উক্ত সম্পত্তি সেকেন্দার আলী সিকদার জবর দখল করে রাখার জন্য দেওয়ানী আদালতে দুটি মামলা এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করে। তবে উক্ত মামলাগুলোতে সে হেরে যায়। এরপর একের পর এক আরও মামলা দিয়ে হয়রানী করে চলছে এবং আমার পৈত্রিক সম্পত্তিটুকু জবর দখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ক্রেতা আব্দুল হাই হাওলাদারকে আজ পর্যন্ত সম্পত্তি পরিমাপ করে দিতে পারি নি। গত ৩০ আগষ্ট উক্ত সম্পত্তি পরিমাপ করে আমার ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সম্পত্তিতে গেলে সেকেন্দার আলী সিকদাররের পরিবারের মহিলা সদস্যরা সহ অন্য আরো লোকজন আমাদের উপর হামলা করে মারধর করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে পিরোজপুর থানায় সেকেন্দার আলীর পুত্রবধু একটি মামলা করেছে।
বিপ্লব মিস্ত্রি তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে নিজেদের অধিকার আদায়ে এবং হয়রানীমূলক মামলা মোকদ্দমা থেকে পরিত্রান পেতে আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ বিভিন্ন মহলের কাছে সুবিচার দাবী করেছেন।
