পিরোজপুরে জমি নিয়ে বিরোধে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ॥ পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
পিরোজপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগে পৌর কাউন্সিলর আব্দুল হাই হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রবিবার রাতে আহত বৃদ্ধার ছেলের স্ত্রী ইতি ইসলাম বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পৌর কাউন্সিলর আব্দুল হাইকে ১নং আসামী করে নামীয় ১৭জনসহ অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামী আব্দুল হাই পিরোজপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর পৌর এলাকার বাইপাস সড়কের সার্জিকেয়ার ক্লিনিকের সামনের একটি জমি নিয়ে জনৈক সেকান্দার আলী সেখের সাথে পৌর কাউন্সিলর আব্দুল হাই এর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। ঘটনার দিন গত রবিবার সকালে পৌর কাউন্সিলর আব্দুল হাই লোকজন নিয়ে জমি দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এসময় তারা বাড়ির বৃদ্ধ, শিশু ও নারীদের উপর নির্যাতন চালায়। জমির মালিক সেকান্দার সেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৭০) এগিয়ে এলে কাউন্সিলর হাই ও তার সহযোগীরা তাকে বেধরক মারধর করে। পিটিয়ে তার হাত ভেঙ্গে ফেলে। এ সময় হামলাকারীরা ফাতেমা বেগমের ছেলের বউয়ের উপর নির্যাতন চালায়। এ দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে ফাতেমা বেগমের কলেজ পড়ুয়া নাতনির উপরও নির্যাতন চালায় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। বাড়ির লোকজনকে রক্তাক্ত জখম করে বাসার সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে নেয় বলেও অভিযোগ করা হয়। এ সময় তারা সেকান্দার সেখের দখলে থাকা ৩/৪টি দোকান ঘর ভেঙ্গে ফেলে এবং তারকাটা দিয়ে হাটার পথসহ জায়গাটি ঘিরে দেয়।
মামলার বাদী ইতি ইসলাম বলেন, ‘দিনের বেলা মধ্যযুগীয় কায়দায় কাউন্সিলর আব্দুল হাই বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হঠাৎ করেই অতর্কিত আমাদের উপর হামলে পরে। আমার শাশুরীকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। আমার কোলে শিশু থাকা সত্ত্বেও কোন আকুতি মিনতি শোনেনি। বাচ্চাটাকেসহ আমাকেও মেরেছে।’
এ ব্যাপারে কাউন্সিলর আব্দুল হাই বলেন, তাদের অভিযোগ সত্য নয়। আমার ক্রয়কৃত জায়গা সেকান্দার আলী সেখ ও তার ছেলেরা দখল করে রেখেছে। এ জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা হলে সে মামলাতে তারা হেরে যায়। পরে ঘটনার দিন জায়গা উদ্ধার করতে গেলে আমার লোকজনের সাথে বাকবিতন্ডা হয়েছে। এ সময় মহিলাদের সাথে মহিলাদের কিছুটা হাতাহাতি হয়েছে। তারা মহিলাদের দিয়ে আমার লোকজনকেও মারধর করেছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বাদল জানান, সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদীদের চলাচলের রাস্তা ঠিক করে দেয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় রবিবার রাতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
