প্রধান সূচি

উচ্চমাত্রার শব্দ দূষণে বিপর্যস্ত পিরোজপুরের জনজীবন

ছোট শহর পিরোজপুরে শব্দ দূষণের যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছে শহরবাসী। পুরো দেশেই শব্দ দূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় মফস্বল শহরগুলোতেও যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে শব্দ দূষণ।

রিক্সার হর্নের শব্দে শহরবাসি অতিষ্ট হয়ে পড়েছে, ছোট এই শহরে ধারণ ক্ষমতার চেয়েও যেন বেশি চলছে রিক্সা, ভ্যান, অটোরিক্সা। পাশাপাশি বাড়তি যানজট সৃষ্টি হচ্ছে অবৈধ যানবাহন চলাচলে। ইট, বালু বোঝাই ট্রলারের ইঞ্জিন বিশিষ্ট ট্রলি, নসিমন, ট্রাকটার, মিনি ট্রাক ইত্যাদি যানবাহন অবাধ চলছে শহরের প্রাণকের্ন্দের রাস্তাগুলোতে। এতে করে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে বিকট শব্দ তেমনি নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। দূষিত হচ্ছে বায়ু, সৃষ্টি হচ্ছে শব্দ দূষণ। বিকট শব্দে এসব যানবাহন চলাচলের সময়ে কালো ধোয়ায় ছেয়ে থাকে শহরের রাস্তাগুলো। শব্দ দূষণ ও বায়ু দূষণের পাশাপাশি শহরের মধ্যে দিয়ে চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

এদিকে, অযাচিত রিক্সার হর্নের শব্দ দূর্বিসহ করে তুলছে পৌরবাসীর জীবনযাত্রা। শহরের সাধণা ব্রীজ থেকে কৃষ্ণচূড়া মোড় এবং কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মোড় থেকে দামুদর পোল শহরকে কেন্দ্রকরেই এই সড়কগুলো সকাল থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ও রিক্সা ভ্যান চলাচলে। এসব যানবাহনের শব্দে অতিষ্ট পথচারীসহ শহরবাসী।

ব্যাটারি এবং মোটর চালিত এসব যানবাহনে ব্যবহার করা হচ্ছে কমদামী বেশি শব্দ সম্পন্ন হর্ন। যার ফলে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কোমলমতি শিশু, পথচারি, ব্যবসায়ী, ও শহর মুখী মানুষগুলো। দূরের রাস্তায় ঊচ্চ শব্দের হর্ন থাকলে দূর থেকেই পথচারী বা অন্যান্য গড়িকে সতর্ক করা যায় কিন্তু শহরের মধ্যে এই শব্দগুলো শ্রবণকারীর জন্য কষ্টকর। মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারনে খিট খিটে মেজাজি হয়ে উঠছে পথচারিরা, যার প্রভাবে কখনো কখনো ক্ষিপ্ত হয়ে গালী গালাজ ও চরথাপ্পরের মত ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।

রিক্সায় যে হর্ন বাজানো হয় তা অপেক্ষাকৃতভাবে মোটরসাইকেল বা বাস ট্রাকের চেয়ে কম ডেসিবেল (ডিবি) সমৃদ্ধ। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে একজন সুস্থ মানুষ ২০ থেকে ২০,০০০ স্পন্দনের শব্দ শুনতে পারে। মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪০-৫০ ডিবি পর্যন্ত। এমন অনেক হর্ন রয়েছে যে হর্নগুলো ৬০ ডিবি থেকে শুরু করে ১২০ ডিবি পর্যন্ত শব্দ উৎপন্ন করে। যদিও রিক্সার হর্নে এর তুলনায় কম ডিবি থাকে, তবে সাধারণত ৬০ ডিবি শব্দ মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডিবি শব্দ সম্পূর্ণ বধিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ ধরনের হর্ন এর কারণে সৃষ্ট শব্দ দূষণ স্বাস্থ্যহানীর অন্যতম কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে মানুষের কান যেকোনো শব্দের ব্যাপারে যথেষ্ট সংবেদী। তাই তীব্র শব্দ কানের পর্দাতে বেশ জোরো ধাক্কা দেয়, যা কানের পর্দাকে নষ্টও করে দিতে পারে । শিশুদের ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভব সুদূর প্রসারী হতে পারে। শিশু বয়সে শব্দের অধিক তারতম্যের জন্য বৃদ্ধা বয়সে তাদের কানের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

অসহনীয় এই উচ্চতর হর্নের শব্দের কবলে বিপর্যস্ত জনজীবন মুক্তি পাচ্ছে না কোন শ্রেণির মানুষই। বিপদের মুখে ছাত্র-ছাত্রীরা। অতিরিক্ত শব্দ দূষনের ফলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে মেধা বিকাশে। শহর কেন্দ্রিক  স্কুল-কলেজগুলো বেশির ভাগই রাস্তার পাশে, তাই হর্নের শব্দে মনোযোগ খুন্ন হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তেমনি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মেধাবিকাশে, ক্ষতি হচ্ছে পড়ালেখার। তাই এই ধরনের হর্ন অচিরেই বন্ধ না হলে নিরব ঘাতক এই হর্নের শব্দ দূষনের কারণে হুমকির মুখে পড়ে যাবে মানবজীবন।

Please follow and like us:


« (পূর্ববর্তি সংবাদ)



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial