নাজিরপুরে মোজাফ্ফর হত্যাকারী গ্রেফতারের দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
পিরোজপুরের নাজিরপুরে ব্যবসায়ী মোজাফ্ফর শেখ (৫০) নিখোঁজের পরে ভাসমান মরদেহ উদ্ধারের ৮দিন পেরিয়ে গেলেও পুুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। এমনকি পাওয়া যায়নি ঘটনা প্রকৃত রহস্য।
এদিকে, ব্যবসায়ী মোজাফ্ফর শেখ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারসহ ফাঁসির দাবীতে বুধবার দুপুরে স্থানীয় গোলারহাট বাজারে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। এ মানববন্ধনে এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক নারী পুরুষ অংশ গ্রহণ করেছেন।
এছাড়া থানা পুলিশের পাশাপাশি আলোচিত এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে সোমবার থেকে মাঠে নেমেছে পিবিআই পিরোজপুরের পুলিশ পরির্দশক মো. মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম।
জানা যায়, গত ১২ আগস্ট থেকে মোজাফ্ফর নিখোঁজ হয়। ১৬ আগস্ট দুপুরে পিরোজপুর সদর থানা এলাকার থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় তার শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ ১৫টি ইট ভর্তি একটি প্লাস্টিকের বস্তা মুখ রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। মরদেহ উদ্ধারের পূর্বে ১৪ আগস্ট রাতে এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে নাজিরপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন নিহত মোজাফ্ফর শেখের মেয়ে সোনিয়া খানম।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট দুপুরের খাবার শেষে বিকেল ৩ টার দিকে বাসা থেকে নগদ ৬৫ হাজার টাকা সাথে নিয়ে স্থানীয় গোলারহাট বাজারে যায়। সেখান থেকে বাজার করে বাড়ী পাঠায়। ওইদিন রাত ৮টার দিকেও সে বাড়ীতে না ফিরলে তার ব্যকহৃত মোবাইলে ফোন করেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত গভীর হলেও তিনি বাড়ীতে না ফেরায় এবং মোবাইলটিও বন্ধ পাওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করে। খোঁজাখঁজি কালে জানতে পারে ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে তিনি ওই বাজারের স্বপন শীলের সেলুন থেকে শেভ করে। পরে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই বাজারে অবস্থান করে সাড়ে ৭টার দিকে কামরুলে দোকান থেকে চা-পান খেয়ে পাওনা টাকা আনতে শিংখালী গ্রামে যাবে এই কথা বলে স্থানীয় কুমোদ হালদারের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে ওই বাজার থেকে বের হয়ে যায়। পরে ওই রাতে যাদের কাছে ব্যবসায়িক টাকা পাওনা ও জমি-জমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে তারাই মোজাফ্ফর শেখকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে তার কাছে থাকা ৬৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে তাকে কোথাও গোপন করে রেখেছে। এ ঘটনায় কুমোদ হালদারসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে নিহত মোজাফ্ফর শেখের মেয়ে সোনিয়া (২১) বাদী হয়ে নাজিরপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
নিহতের ছেলে আরমান জানান, তার বাবা নিখোঁজের পরদিন ১৩ আগস্ট সকালে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে খানায় অভিযোগ করা হলেও ১৪ তারিখ রাতে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু হয়। মামলা রুজুর আগে ওই দিন বিকেলে থানা থেকে দুজন পুলিশ অফিসার গোলারহাট বাজারসহ শিংখালী গ্রামে তদন্তে আসেন। এসময় স্থানীয়রা ১নং বিবাদী কুমোদ হালদারকে আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করলে পুলিশ তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্য কদম আলীর জামিনে রেখে চলে যান। পরবর্তীতে তার পিতার মরদের উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই ওই ১১ জনকে আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে কথা হলে ইউপি সদস্য কদম আলী বলেন, পুলিশ যখন বলবেন তখনই কুমোদ হালদারকে থানায় হাজির করতে হবে এই শর্তে লিখিত ভাবে আমি তাকে জিম্মায় রেখেছিলাম। ওইদিন রাতে কুমোদ হালদার আমার ঘরেই রাত্রী যাপন করেছে। পরদিন সকালে চলে যায়। তবে সে এলাকাতেই ছিলো। মোজাফ্ফরের লাশ পাওয়ার পর থেকে কুমোদসহ মামলার সকল আসামীই এলাকা ছেড়েছেন। বিষয়টি এমন হবে বুঝলে আমি কুমোদকে কখনোই আমার জিম্মায় রাখতাম না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, মামলায় উল্লেখিত কয়েকজন আসামীর কাছে নিহত মোজাফ্ফর শেখের ব্যবসায়িক লেদদেন বাবদ ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পাওনা ছিলো।
পিবিআই পিরোজপুরের পুলিশ পরির্দশক মো. মাহমুদুর রহমান জানান, মামলাটি এখনো থানা পুলিশ তদন্ত করছে। তাদের পাশাপাশি আমরাও ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের সনাক্ত পূর্বক গ্রেফতারের জন্য আমাদের মত করে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম মুনির জানান, মোজাফ্ফর শেখ নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমরা তাৎক্ষনিক তাদের উদ্ধারের জন্য তথ্যপ্রযুক্তিসহ পুলিশি তৎপরতার মাধ্যমে তাকে উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। পরে পিরোজপুর থানা পুলিশ তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করেছে। তাছাড়া তার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের জন্য আমরা পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি। আশা করি খুব শীগ্রই অপরাধীরা ধরা পরবে।
