প্রধান সূচি

স্বপ্নপ্রেমিক

আমি প্রকৃতির বাইরে নিজের গড়া শুদ্ধ একটা মানুষ চাই।
সেই মানুষের গহীন মনে নিজের ছবি আঁকতে চাই।
যার অসীম আকাশের নীলে আমি হবো একলা হলুদ মেঘ।
হাত বাড়ালেই যার উষ্ণ হাত স্পর্শ করবে নির্দ্বিধায়।
যার মনে আমার জন্যে জন্মাবেনা কোন অবহেলা কিংবা উপেক্ষা,
আমার সফলতায় স্থান পাবেনা কোন তাচ্ছিল্য কিংবা বিদ্বেষ!
বরং গর্বে ভরাবে তার ছোট্ট বুক।
তার থাকবেনা কোন বাড়তি প্রত্যাশা।
তার মনের পুরোটা অংশ জুড়েই থাকবো,
আমি আর আমার স্বপ্ন।
আমার ছোট ছোট দুষ্টুমীতে
বড় বড় প্রশ্রয়গুলো খেলা করবে
তারই ইশারায়৷
ইচ্ছে হলেই রোদে পুড়বো, বৃষ্টিতে ভিজবো, নদীতে সাঁতরে বেড়াবো, মাঠের সবুজ ঘাসে পীঠ ভেজাবো। আর গায়ে কাদা মেখে ফিরে যাবো সেই শৈশবে!
আর ভাববো, এইবার বুঝি সে রাগ করবে! ওমনি এগিয়ে এসে হাসিমুখে,
আমার হাতটি ধরে বলবে, ‘তুমি সুখী তো?
আমি মনে মনে বলবো, ‘আমি সুখী।’
সেদিন হয়তো পহেলা ফাল্গুন!
ঘরে মন বসছেনা।
তাই হলুদ শাড়ি লাল টিপে
আমিও পাখনা মেলেছি হলদে বনে।
সব হলুদ পাখিরা জুটি বেঁধেছে।
শুধু আমিই দলছুট একলা পাখি।
রিক্সার বামদিকটা তখন ভীষণ ফাঁকা লাগছে আমার৷
হঠাৎ পথে রিক্সা থামিয়ে কেউ বলবে, ‘ আচ্ছা বলতো, খোচাখোচা দাড়ি আর হলুদ পাঞ্জাবিতে কেমন লাগছে আমায়?’
আমি অবচেতন মনে খিলখিলিয়ে হেসে বলবো, ‘একদম ভবঘুরের মতো লাগছে’।
অন্য একটি দিন। অফিস আর বাড়ির কাজ করতে করতে আমি ভীষণ ক্লান্ত।
খুব করে চাইছি আমার কপালের ঘামটা কেউ মুছে দিক।
ঝলসে যাওয়া হাতটা দেখে দরদ দিয়ে কেউ জিজ্ঞেস করুক, ‘খুব কষ্ট হচ্ছে বুঝি তোমার?
তড়িঘড়ি করে হাতের সকল কাজ কেড়ে নিয়ে সে বলুক, ‘আজকে তোমার ছুটি।’
হয়তো সেদিন আমার বিষন্নতা আমায় কুরে কুরে খাচ্ছে৷ গভীর রাত্রেও আমার ঘুম আসছেনা।
বারান্দার এক কোণে আমি চুপটি করে শুয়ে আছি, কাঁদছি।
মনে মনে চাইছি, কেউ এসে কোলের উপর আমার মাথাটা রেখে জিজ্ঞেস করুক, ‘বোকা মেয়েটার ঘুম আসছেনা’?
আলতো করে কপালে হাত বুলিয়ে সে কানের কাছে মুখ রেখে বলুক, ‘রাত জেগেও স্বপ্ন বোনা যায়, নিশ্চুপ প্রহরের গল্প শোনা যায়, শুনবে?’
আমি চোখ বন্ধ করে বলবো, ‘হ্যা, শুনবো।
আমি এমনই একটা মন চাই,
মনের ভেতর শ্রদ্ধা চাই, শ্রদ্ধাসহ প্রেম চাই।
পথের প্রান্তে পথিক চাই, পথে পথে হাটতে চাই।
এলোমেলো শব্দগুলো ইচ্ছেমতো ছুঁড়তে চাই,
অর্থগুলো বুঝতে পারে এমন একটি বন্ধু চাই।
আমার সকল অসুস্থতায় নিস্বার্থ শুশ্রূষা চাই।
মরে যাওয়া আবেগগুলোর আলমারিতে জায়গা চাই।
আমার হাজারটা ভুল শুধরানোর লক্ষ-কোটি সুযোগ চাই।
আমার বেহুদা সব আবদারের একটি মাত্র স্রষ্টা চাই।
আমি এমনই একটা পুরুষ চাই।
কঠিন সব রাস্তা শেষে, যোজন দূরের সময় ঘেষে,
দিব্বি বুড়ো হতে চাই।
বয়স যখন আশি’র ঘরে, হাতের মুঠোয় হাতটি চাই।
প্রতিটি প্রহর আমি তাকে ভেঙেচুরে গড়তে চাই।
সত্যিই আমি নিজের গড়া অদ্ভুত এক প্রেমিক চাই।
(সংগৃহীত)
Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial