প্রধান সূচি

দীর্ঘ ৯ বছর পর রাহুমুক্ত হতে চলছে ॥ ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন

পিরোজপুর জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি

হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট ও শ্রম অধিদপ্তরে মামলা মোকদ্দমা নিস্পত্তি শেষে অবশেষে স্বস্তি ফিরেছে পিরোজপুর জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতিতে। দীর্ঘ ৯ বছরের অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত মালিকদেরই জয় হলো। রাহু মুক্ত হতে চলে পিরোজপুরের এ বাস মালিক সমিতি।

সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান মহারাজের বিরুদ্ধে সমিতির অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম-দুর্নীতি ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ এনে অনাস্থা দেয় সমিতির ১৭১ সদস্যের মধ্যে ১৪০ জন সদস্য। চলতি বছরের দুই ২ অক্টোবর সাধারণ মালিকরা এক বিশেষ সভায় পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়ালের ছোট ভাই মশিউর রহমান মহারাজের নেতৃত্বাধীন জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির বিরুদ্ধে এ অনাস্থা প্রস্তাব  গ্রহন করেন। তারা উক্ত কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কার্যনির্বাহী গঠনের জন্য এদিন ৫ সদস্যের একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে অনুমোদনের জন্য খুলনা শ্রম অধিদপ্তরে কাগজপত্র প্রেরণ করেন।

কিন্তু সমিতির সভাপতি দাবী করে মশিউর রহমান মহারাজ ঢাকার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে একটি মিস কেস (নং ১৫/২০১৯) দায়ের করলে গত ২০ অক্টোবর আদালত গঠিত আহবায়ক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নবগঠিত আহবায়ক কমিটির আহবায়ক রতক কুমার চক্রবর্তী একটি রীট পিটিশন (নং-১১৭১৩/২০১৯) দাখিল করলে হাইকোর্ট গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ স্থাগিত করেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে মশিউর রহমান মহারাজ সুপ্রিম কোর্টে আরও একটি রীট আবেদন করলে গতকাল বৃহস্পতিবার তা খারিজ করে দেয়। ফলে এ সংক্রান্ত অভিযোগ হাইকোর্ট এবং সুপ্রিমকোর্টে পর্যন্ত গড়ালে রায় যায় মসিউর রহমান মহারাজের বিপক্ষে।

এদিকে, খুলনার শ্রম অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক অসীম কুমার বিশ^াস এবং শ্রম কর্মকর্তা গনেশ চন্দ্র বসু গত ৩ নভেম্বর পিরোজপুরে এসে সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা পিরোজপুর পুলিশ সুপার, সহকারি উপ-পরিদর্শক, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ ও সমিতির ১৪০ জন সদস্যের মতামত যাচাই করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর পিরোজপুর জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির বিরাজমান অসন্তোস ও বিশৃংখলা নিরসনের লক্ষে ২০১৮ সালে মশিউর রহমান মহারাজের নেতৃত্বাধীন বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং নতুন গঠিত আহবায়ক কমিটি এবং ৩ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে বৈধতা দেন। একই সাথে গঠিত আহবাযক কমিটিকে ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। গত ৪ নভেম্বর খুলনার শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নির্দেশনা দেয়া হয।

শ্রম অধিদপ্তরের এই আদেশের পর পিরোজপুর জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির নির্বাচনে আর কোন জটিলতা রইলো না। এ বিষয়ে বর্তমান কমিটির আহবায়ক রতন কুমার চক্রবর্তী বলেন, এর মাধ্যমে গত ১০ বছরের একটি কালো অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল হালদার বলেন, মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার মালিকদের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। সাবেক সভাপতি মহারাজদের অত্যাচার, নিপিড়ন. এমনকি শারীরিক নির্যাতনকে ভয় না পেয়ে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলাম অসহায় মালিকদের পক্ষে, আজ সত্যের জয় হলো।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টেবর জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির ২৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সমিতির সদ্য সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান মহারাজের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন সমিতির সাধারণ মলিকরা। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য বাবুল হালদারের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে পিরোজপুর বাস মালিক সাবেক সভাপতি মসিউর রহমান মহারাজের ব্যাপক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির খতিয়ান তুলে ধরা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের সামনে নানা খাত থেকে ২৪ কোটি টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন মালিকরা। এ সময় দীর্ঘ নয় বছর সাবেক এমপি এ কে এম এ আউয়ালের ছোট ভাই মশিউর রহমান মহারাজের শারীরিক ও মানুষিক অত্যাচারের করুন চিত্র তুলে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বেশ কয়েকজন বাস মালিক।

জানা গেছে, বাস মালিকদের সরাসরি রোটেশন বিক্রি, কোঠা ভাড়া দিয়ে টাকা আদায়, গাড়ি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে টাকা আদায়, বিভিন্ন ফেরি ঘাট থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়, সমিতির নামে দূরপাল্লার গাড়ি থেকে চাঁদা নেয়া, শ্রমিকদের নামেও সমিতির গাড়ি ও পরিবহন থেকেও নেয়া হত চাঁদা। এসব কাজে মসিউর রহমান মহারাজকে সহযোগিতা করেছেন সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন নান্না, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল হক খোকন, কোষাধ্যক্ষ রিপন দাসসহ কিছু দালাল চক্র। এই সব অভিযোগের প্রতিবাদ করতে গেলে তার (মহারাজের) নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে মালিকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হতো। সমিতির সদস্যরা অভিযোগে জানান, উল্লেখিত ব্যক্তিরা যখন মালিক সমিতির বিভিন্ন পদ দখল করেন তারা কোন গাড়ির মালিক ছিলেন না। এমনকি মশিউর রহমান মহারাজ বড় ভাই এমপির জোরে সমিতির সভাপতি হন, কিন্তু তার  নিজের তখন কোন বাস ছিল না। তিনি বতর্মান ২০১৯ সালে গাড়ির (বাস) মালিক হন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial