ধরা ছোঁয়ার বাইরে প্রধান আসামী গরু ব্যবসায়ী মজিবর
জামাল হত্যার মামলার আসামীদের ভয়ে বাদীপক্ষ নিরাপত্তাহীনতায়
পিরোজপুর সদর উপজেলা কুমিরমারা ফেরী ঘাটে চায়ের দোকানদার চাঞ্চল্যকর জামাল হত্যার মামলার আসামীদের ভয়ে বাদীপক্ষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। এ মামলার পলাতক আসামীরা একের পর এক হুমকি দিয়ে চলছে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের।
জানা গেছে, সদর উপজেলার কুমিরমারা বাসিন্দা মৃত কাছেম আলী হাওলাদারে ছেলে জামালের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী আপন ফুপাতো ভাই মজিবর শেখ এর সাথে মাত্র ২ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মৃত সেকেন্দার আলী সেখের ছেলে মজিবর পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী। হত্যাকান্ডের ৬ মাস আগে জামাল স্থানীয় মতি তালুকদারের কাছ থেকে কবলামূলে দুই কাঠা জমি কিনে নেয়। কিন্তু যে কোন মূল্যে ঐ দুই কাঠা জমি পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে মজিবর। কূটকৈৗশলী মজিবর ঐ ২ কাঠা জমি নেয়ার জন্য মামাতো ভাই জামালের গরু দিয়ে জামালকেই চোর বনিয়ে দিতে সক্ষম হয় এর আগে। থানা পুলিশ প্রথম দিকে গরু উদ্ধার করে স্থানীয় জব্বার খানের জি¤¦ায় রাখেন।
পরে জামাল আইনী মোকাবেলা করে পিরোজপুর অতিরিক্তি চীফ জুডিশিয়াল আদালত থেকে নিজের গরুর মালিকানা বুঝে পায়। এরপর গত ২২ জুলাই সোমবার পিরোজপুরে জেলা শহরে ঔষধ কিনতে আসার পথে মজিবরের নেতৃত্বে তার লোকজন প্রতিপক্ষ জামালের ভাই কামালের উপর হামলা করে হত্যা চেষ্ট চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা কামালকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং ডান পা ভেঙ্গে দেয়। দিন দুপুরে এত বড় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার পরেও প্রতিপক্ষরা উল্টো মামলা দিয়ে জামালকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠাতে সক্ষম হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এত কিছুর পরেও জামালের কাছ থেকে ঐ ২ কাঠা জমি না নিতে পেরে নতুন কৌশল নেয় গরু ব্যবসায়ী মজিবর ও তার লোকজন। তারা জামালকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে গোপন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে। জামাল হত্যাকান্ডকে গরু চুরির ঘটনা সাঁজাতে মজিবর গং অন্য এলাকা থেকে ট্রলারে করে ৪টি গরু এনে কুমিরমারা স্লইজ গেট সংলগ্ন শহিদ ফকিরের সুপারি বাগানে রেখে দেয়।
হত্যাকান্ড তরান্বিত করতে ঘটনার দিন ২৩ সেপ্টে¤¦র বিকেলে মজিবরের নিজের মোবাইল দিয়ে মামতো ভাই জামালকে নিজের মধ্যে চলমান বিরোধ মিমাংসার কথা বলার নামে জামালের অবস্থান ও গতিবিধি নিশ্চিত হতেই ফোন করেছিল হত্যাকান্ডের আগেই। খুনের পরিকল্পনানুযায়ী জামালের বাড়ী ফেরার পথিমধ্যে মজিবর তার জামাই মতি সেখের বাড়ীতে অবস্থান নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে কখন বাড়ী ফিরবে জামাল। অপরদিকে অন্যসব খুনিদের মজিবর কুদ্দুছ হাওলাদারের বাড়ীতে অপেক্ষমান রাখে। প্রতিদিনের মত জামাল কুমিরমারা ফেরী ঘাটের তার দোকান বন্ধ করে বাড়ী ফেরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে মতি সেখের বাড়ীর সামনের রাস্তায় পৌঁছালে মজিবর তাকে কথা বলার নাম করে এক সাথে খালের সাঁকো পার হয়ে কুদ্দুস হাওলাদারের বাড়ীর সামনে পৌঁছায়। এসময় সেখানে আগে থেকে অপেক্ষমান কুদ্দুস হাওলাদার, মোকলেছ হাওলাদার, মাহাবুব চৌকিদার, ফোরকান হাওলাদার, সিরাজ সেখ, ফরিদ হাওলাদার,শহীদ সেখসহ আরো ১০/১৫ জন মজিবরের নেতৃত্বে কিছু বুঝে উঠতে পারার আগেই জামালকে হাত মুখ বেঁধে পার্শ¦বর্তী শহীদ ফকিরের সুপারী বাগানে নিয়ে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হবার পর খুনিরা লাশ জামালের মালিকানা ট্রলারে উঠায়। তারা হত্যাকান্ডকে গরু চোরের ঘটনা সাজাতে আগে থেকে এনে রাখা ৪টি গরুও ঐ ট্রলারে উঠিয়ে হুলারহাট হুইল ব্রীজের কাছে ট্রলারটি নিয়ে লাশ ও গরু রেখে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় নিহতের ভাই কামাল হাওলাদার মজিবরসহ ৮ জন আসামীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে। পুলিশ মামলায় ফোরকান, সেরাজ, মোখলেছ সামে তিন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু হত্যাকান্ডের মূল আসামী গরু ব্যবসায়ী মজিবরকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।
এদিকে, জামাল হত্যাকান্ডের মূল আসামী মজিবরসহ অন্যরা পালিয়ে থেকে নিহত জামালের পরিবারসহ মামলার বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দিয়ে চলছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে নিহত জামালের পরিবার এবং হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীরা।
