নববর্ষ দুয়ারে
পিরোজপুরে ব্যস্ত সময় পার করছে মৃৎ শিল্পীরা
বর্ষবরণ করতে ব্যস্ত পিরোজপুরের মানুষ। চলছে নানা আয়োজন। বৈশাখ বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব। জেলা সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবং গ্রাম গঞ্জে বসবে বৈশাখী মেলা। এর এ বৈশাখী মেলার বিশেষ একটি আকর্ষন থাকে মাটির তৈরী নানা ধরণের খেলনা ও মূর্তি। যা বাচ্চাদের আনন্দের সামগ্রী। তাই মেলাকে সামনে রেখে শেষ মূহুর্তে দিনভর কাজের চাপে ব্যস্ত সময় পার করছে পিরোজপুর শহরের পালপাড়া, মুলগ্রাম পালপাড়া, কাউখালী উপজেলার উত্তর বাজার ও সোনাকুর গ্রামের মৃৎ শিল্পীরা ।
কালের আবর্তে ঐতিহ্য আর পেশা হারিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরানো টিকে থাকা মাত্র ৮ থেকে ১০ পরিবারের সদস্যরা অন্যান্য কর্মহীন দিনের তুলনায় এখন নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে বেশ ব্যস্ততায় দিন কাটাচ্ছে।
সরেজমিনে কাউখালী উপজেলার উত্তর বাজার মৃৎশিল্প পাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, ৮ বছরের শিশু সুমন পাল থেকে শুরু করে সত্তোরোর্ধ সুধির পাল পর্যন্ত সকলেই কাজে মহাব্যস্ত। কথা বলার কোনও সুযোগ নেই, তবুও কাজের ফাঁকে কথা হয় তাদের সাথে। বানানো শেষ হাতি, ঘোড়া, হরিণ, বাঘ, গরু, লঞ্চ, নৌকা, হাড়ি-পাতিল, বালতি, থালা, কড়াই। পঙ্খীরাজে যুবরাজ। আরও কত কিছু। পাল পাড়ার মানুষদের তাই ব্যস্ততার কমতি নেই। আর মাত্র একদিন বাকি পহেলা বৈশাখের। আর সে কারণে তাদের দিন-রাত এক হয়ে গেছে। অবসর নেই বাড়ির বউ-ঝি, ছেলে-বুড়ো কারও। সবাই ব্যস্ত মাটির নানা সামগ্রী বানানোতে। উঠানে উঠানে রোদে শুকানো হচ্ছে তৈরি করা নানা খেলনা। তারপর যাবে সেগুলো পণীতে (চুলা)। তবে মাটির দিয়ে তৈরী প্রাণী পাল পাড়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য বলেই জানা গেছে। পাল পাড়ার প্রতিটি বাড়িই যেন মাটির হাড়-পতিল, হাতি, ঘোড়া, গরু, বাঘ, চিংড়ি মাছ, রুই মাছ, দেব-দেবীর মূর্তি বানানোর কারখানা।
কাউখালীর সোনাকুর গ্রামের মৃৎ শিল্পি অরুন পাল জানান, বিভিন্ন পূজার সময় প্রতিমা তৈরী আর বৈশাখী মেলার সময় মাটির খেলনা বানানোই তাদের এখন প্রধান আয়ের উৎস্য। তাই এ সময় তাদের অনেক ব্যস্ততা থাকে। বৈশাখী মেলার মাত্র দ’ুদিন বাকি, অনেক খেলনা এখনো সম্পূর্ণ শুকায়নি তাই তাতে রং না করা হলেও অর্ধেক খেলনায় রং করা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে হরেক রকম মাটির প্রাণী ও নানা ধরনের খেলনা বানানোর কাজ।
খেলনা সামগ্রী এক একটি ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বাজারে বিক্রি করা হবে তবে খেলনা বিশেষে বাহারি ও বড় আকৃতির অনেক খেলনা ৮০ থেকে ১শ’ টাকায়ও বিক্রি হবে বলে জানান দিপঙ্কর পাল নামের আরেক মৃত শিল্পি।
