জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পিরোজপুরের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয় ॥ হুমকির মুখে সবুজ বনাঞ্চল
জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে এখন হুমকির মুখে পড়েছে উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরের প্রাকৃতিক পরিবেশ। সাগরের পানিতে অতিরিক্ত লবনাক্ততা বৃদ্ধির সাথে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে পিরোজপুরের সন্ধ্যা, বলেশ্বর ও কঁচা নদীর তীর ঘেষা মনোমুগ্ধকর সবুজ বনায়ন।
১৯৭০ সালের ভয়াবহ বন্যা, ২০০৭ সালের প্রলংয়কারী সিডর এবং আয়লার তান্ডব থেকে বাঁচাতে প্রাকৃতিক দেয়ালখ্যাত সবুজ বনাঞ্চল স্থানীয়দের জীবন বাঁচালেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ প্রাকৃতিক দেয়াল এখন সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে পিরোজপুরের ৭ উপজেলার সাধারণ মানুষ। সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে প্রতিটি জোয়ারে বেড়িবাঁধ, বালু বা মাটির স্তর প্রতিদিনই ৫/১০ ইঞ্চি পর্যন্ত নেমে যাচ্ছে নদীর ভূ-গর্ভে। এ কারণে ভেঙ্গে পড়েছে গাছের কান্ড, আবার কোন কোন গাছের শিকর বের হয়ে যাওয়ায় এসব গাছ খাদ্য সংগ্রহ করতে না পাড়ায় মরে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, সমুদ্রে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থল ভাগের এসমস্ত গাছের গোঁড়ায় জোয়ারের পানির চাপে মাটি ও বালি ধুয়ে যাওয়ায় এখন ভেঙ্গে পড়ছে। মরে যাচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো অসংখ্য প্রজাতির গেওয়া, কেওড়া, ছইলা ও নারিকেল গাছ। হারিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ন এলাকাজুড়ে সবুজ বনাঞ্চল।
নদীর পাড় ও চরাঞ্চলের এ অবস্থা রোধ করা না গেলে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হবে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের বসবাসে চরম বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকার বনাঞ্চল হুমকির মুখে থাকায় বলেশ্বর, কঁচা ও সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকায় লবন সহিষ্ণু গাছ রোপনের দাবি জানান এলাকাবাসী। একই সাথে ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধগুলো পূনঃনির্মান ও সংস্কারের দাবী তাদের।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সবুজ বনায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা চিহ্নিত করে সবুজ বনায়নের আওতায় আনা হবে।
