জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে বিপাকে নাজিরপুরের কলেজ শিক্ষক!
নাজিরপুরে জাতীয় শোক দিবসের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার অপরাধে রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের শিকার হয়ে বেতন-ভাতা বন্ধের উপক্রম হতে যাচ্ছে এক কলেজ প্রদর্শকের। কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করলেও তাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রদর্শক ওই কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শুক্রবার নাজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকের নাম মো. মহসিন সিকদার। তিনি নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের প্রদর্শক। এ ছাড়া তিনি নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মালিখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। মহসিন সিকদার ২০০১ সাল থেকে ওই কলেজের প্রদর্শক পদে কর্মরত। এ কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় এমপি আউয়ালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার সহদর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান মালেক এমপি’র বিরুদ্ধে অবস্থান দিয়ে দলীয় কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত ৩১ আগস্ট শুক্রবার নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এমপি আউয়ালের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত তার আপন ভাই পিরোজপুর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান মালেকের সমর্থনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন মাটিভাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের ভুক্তভোগী প্রদর্শক মহসিন সিকদার। ওই দিন শুক্রবার কলেজ বন্ধ থাকায় মহসিন সিকদার তার এলাকার নেতাকর্মী নিয়ে শোক দিবসের ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেন। এ খবর পেয়ে মাটিভাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম ওই অনুষ্ঠানে যেতে প্রদর্শক মহসিন সিকদারকে নিষেধ করেন। তিনি মহসিনকে মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে গেলে তার ক্ষতি হবে। কিন্তু মহসিন অধ্যক্ষের বাঁধা উপেক্ষা করে ওই অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। পরের দিন ১ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে মহসিন যথারীতি কলেজে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে গেলে অধ্যক্ষ তাকে স্বাক্ষর করতে বাঁধা দেন। অধ্যক্ষের বাঁধার কারণে ১লা সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে পারেননি প্রদর্শক মহসিন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহসিন বলেন, কলেজ বন্ধের দিনে আমি নেতা-কর্মীদের নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শোকসভায় গিয়েছি। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করায় আমাকে এমন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। বাধ্য হয়ে আজ এ ঘটনায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। ওসি সাহেব অধ্যক্ষ স্যারকে ডেকে নিজেদের মধ্যে সমাধান করতে পরামর্শ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাটিভাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম বলেন, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এমপি সাহেব। তাই এমপির নির্দেশনা অনুযায়ী যেকোনো ছুটি নিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর শোকসভার জন্য নয়, বরং সে অনিয়মিত বিধায় তাকে স্বাক্ষর করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি মহসিনকে এমপির নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছি।
অধ্যক্ষের অভিযোগের ব্যাপারে মহসিন বলেন, শুধু রাজনৈতিক কারণে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি নিয়মিত ক্লাসে যাই, তার প্রমাণ শ্রেণিকক্ষের খাতায় আছে এবং ৩১ আগস্টের আগের হাজিরা খাতায় আমি নিয়মিত স্বাক্ষর করতে পেরেছি।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে এম সুলতান মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি প্রতিষ্ঠানিক বিষয়, থানা পুলিশের বিষয় নয়। তাই তাদেরকে প্রতিষ্ঠানিক ভাবে সমাধান করতে বলা হয়েছে।
