চিতলমারীতে মধুমতির তীব্র ভাঙনে
নদী গর্ভে বিলীন হতে বসেছে ঢাকা-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক
বাগেরহাটের চিতলমারীতে আবারও মধুমতি নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। এতে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে দোকানপাট, বসতবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি। গত ৪ দিনের ভাঙনে উপজেলার মধুমতি-সংলগ্ন শৈলদাহ বাজার,আশপাশের অসংখ্য দোকানপাটসহ ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তীব্র ভাঙনে ঢাকা-পিরোজপুর আঞ্চলিক সড়কও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা চরম হতাশায় ভুগছেন। অবিলম্বে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা না করলে অচিরেই এ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত শুক্রবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধতন কর্মকর্তা, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মধুমতি নদীর ভাঙন দিনদিন তীব্র আকার ধারণ করেছে। তীব্র ভাঙনে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে নদী সংলগ্ন শৈলদাহ বাজার, খেয়াঘাটসহ তার আশপাশে বেশকয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। অব্যাহত এ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে শৈলদাহ বাজার ও ঢাকা- পিরোজপুর আঞ্চলিক সড়কটি এখন অস্তিত্ব সংকটে।
এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ঘর-বাড়ি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। পৈত্রিক বসত-বাড়ি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থরা বাঁচার তাগিদে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। আবার অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে রাস্তার পাশের খাস জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলেও এখনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।
শৈলদাহ খেয়াঘাটের দোকান মালিক রোকা মিয়া সরদার হতাশা ব্যক্ত করে জানান, কিছু বুঝে উঠর আগেই গত মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) আকস্মিক ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে আমার দোকান ঘরটি মালামাল সহ নদীগর্ভে চলে যায়। এতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি দোকানের জায়গা হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এছাড়া বাজারের সেনেটারী দোকান মালিক সাহাদাৎ খান জানান, এই অব্যাহত ভাঙনে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিও নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। তার প্রায় দেড়লক্ষাধিক টাকার মালামাল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এছাড়া স্থনীয় লিন্টু শেখের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙনে পড়ে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয় বলে তিনি জানান। ভাঙন কবলিত এলাকার ব্যবসায়ী বাবুল শেখ তার প্রতিষ্ঠান সরাতে গিয়ে প্রায় ৪০/৫০ হাজার টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয় বলেও তিনি জানান। বাজারের গ্রামীন চিকিৎসক মোঃ আঃ সোবাহান জানান ২০১৭ সালে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি নদীতে চলে গেছে।পরবর্তীতে তিনি পার্শবর্তী স্থানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেও সেটি নিয়ে আতঙ্কে ভূগছেন।
ক্ষতিগ্রস্থ শৈলদাহ বজারের রবিউল শিকদার জানান, বিগত ৩৮বছরের মধ্যে এখানকার প্রায় অর্ধশত ঘর-বাড়ী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মধুমতির গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। শুধু আশ্বাসের বাণী শুনে আসছি কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখননো কার্যকার কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা মোঃ আল অমিন শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এভাবে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে এ বাজারকে কোন ভাবে আর রক্ষাকরা সম্ভব হবে না। এখানকার খেয়াঘাটটি এখন চরম হুমকির মুখে। এই ঘাট থেকে প্রতিদিন গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, কোটালীপাড়া ও পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শত শত লোক পারাপার হয়। বর্তমানে ভাঙনের কবলে পড়ে খেয়া পারাপারের সময় নানা রকমের দুর্ঘটনা ঘটছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুসাঈদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ হয়েছে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে ভাঙন রোধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেবেন।
