প্রধান সূচি

বাংলাদেশ জাতীয় শারীরিক প্রতিবন্দ্বী ক্রিকেট দলের খেলোয়ার শাওন এখন ইজিবাইক চালক

ক্রিকেটার মাশরাফী, সাকিব বা তাসকিন মতো সেলিব্রিটি নয়। তবে সেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি অংশ। তার নাম মো. শাওন সিকদার। শাওন বাংলাদেশ জাতীয় শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলের কৃতি ব্যাটসম্যান ও উইকেট কিপার।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়নের কুমরিমাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মৎস্যজীবি বাবুল সিকদার ও গৃহিনী নাসিমা বেগমের সন্তান শাওন সিকদার বাংলাদেশ জাতীয় শারীরিক প্রতিবন্দ্বী ক্রিকেট দলের সদস্য হিসেবে গত জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইংল্যান্ডে ফিজিক্যাল ডিজ্যাবিলিটি ট্রাই ন্যাশন টি টুইয়েন্টি সিরিজের ম্যান অব দ্যা সিরিজ ও ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরস্কার জিতেছে। ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের সাথে দলের হয়ে খেলে তার এ অর্জন। খেলেছে ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধেও। মেধা অন্বেষনের আট লাখ প্রতিযোগীর সাথে চুড়ান্তে বাছাইয়ে ১৫-তে টিকে এখন সে বাংলাদেশ জাতীয় শারীরিক প্রতিবন্দ্বী ক্রিকেট দলের দাপুটে খেলোয়ার।
ডান পায়ের পাতা শৈশবে পুড়ে গেলে তার জীবনে নেমে আসে প্রতিবন্দ্বিত্ব। তবে এ বাঁধা রুখতে পারেনি তার পথচলা ক্রিকেটার হওয়া। গাজীপুর গ্লাডিওটস্ ক্লাবের হয়ে তার ক্লাব পর্যায়ে খেলা শুরু। গ্রামের মাঠে খেলতে খেলতে শাওন আজ জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটার। হোক না তা শারীরিক প্রতিবন্দ্বী ক্রিকেট।
পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমিরমারা আশ্রয়ন প্রকল্পের মৎস্যজীবি বাবা বাবুল সিকদার ও মা নাসিমা বেগমের বড় সন্তান শাওন কখনও ইজিবাইক চালিয়ে কখনওবা বাবার পেশায় সাহায্য করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একজন সহযোগী।
পিরোজপুর সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান জুয়েলের কাছে শাওনের বিষয়ে শুনে কুমিরমারা আশ্রয়ন প্রকল্পের তার বাড়ীতে কথা হয় শাওন ও তার বাবা-মায়ের সাথে। অত্যন্ত আত্মপ্রত্যয়ী কৃতি ক্রিকেট হওয়ার স্বপ্নে বলীয়ান শাওন। যে পরিবেশে বড় হওয়া এ ব্যতিক্রমী ক্রিকেটার দেশের জন্য নিজের ক্রিকেট দলের হয়ে সম্মান বয়ে নিয়ে এসেছে তা শুধু অবাক করার মতই নয়, উৎসাহ ব্যঞ্জকও। তার দলের অন্যান্য ক্রিকেটারও প্রতিবন্দ্বী। হেড কোচ রাশেদ খান, কোচ মুনিরুজ্জামান ওরফে মনিতা হাসান, ম্যানেজার হাসান সবার সহযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয় শারীরিক প্রতিবন্দ্বী ক্রিকেট দলটি যে দেশের জন্য আশার খোরাক যোগাচ্ছে তা শাওনকে দেখেই বোঝা যায়। আগামীতে ৪০ ওভারের ফিজিক্যাল ডিজ্যাবিলিটি ওয়ার্ল্ড কাপ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাচ্ছে শাওনরা।
শাওন জানায়, লোক মারফত জেনে সে মেধা অন্বেষনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। সেখানে আট লাখ প্রতিযোগীর মধ্যে বাছাই পর্বে উত্তীর্ন হল। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পর্বের বাছাইয়ে উত্তীর্ন হয়ে সে সেরা ১৫-তে স্থান করে নেয়। জুলাই মাসে ইংল্যান্ডে ফিজিক্যাল ডিজ্যাবিলিটি ট্রাই ন্যাশন টি টুইয়েন্টি সিরিজের খেলায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়ার হিসেবে সে নির্বাচিত হয়। খেলায় বাংলাদেশ দল ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে রানারআপ হয়।
ইংল্যান্ডের খেলা শেষে দেশে আসার পর বর্তমানে শাওন ইজিবাইক চালিয়ে বাবার সংসারের অর্থের যোগান দিচ্ছে। অর্থের অভাবে তার ক্রিকেট সামগ্রী কিনতে না পারায় এলাকায় এসে অনুশীলনও করতে পারছে না। শাওন জানায়, আগামীতে খেলার জন্য তার অনুশীলন প্রয়োজন। আর এজন্য এক সেট ক্রিকেট উপকরণ প্রয়োজন।
শারিকতলা-ডুমুরিতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সমাজসেবক আজমির হোসেন মাঝি জানান, একান্তই নিজের প্রচেষ্টায় আশ্রায়ন প্রকল্পের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান শাওন ইংলান্ডে ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ দলের খোলোয়ার হয়ে। এটা আমাদের এলাকার জন্য গর্ব। আমরা এলাকাবাসী যেটুকু সহযোগিতা করতে পারছি তা করে চলছি। তবে শাওনের জন্য সরকারী ও বেসরকারী পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের বৃত্তবান ব্যক্তিরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে শাওন আগামীতে একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার হয়ে দেশ ও জাতির জন্য সাফল্য বয়ে আনতে পারবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial