জাল বিএড সনদ দিয়ে চাকুরী করছেন কাউখালী রঘুনাথপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ইজিএস শিক্ষা নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজ, রঘুনাথপুর এর প্রধান শিক্ষকের বিএড সনদ জাল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার এ সনদের কোন অস্তিত্ব নেই বলে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
জানা যায়, ইজিএস শিক্ষা নিকেতন স্কুল এন্ড কলেজ, রঘুনাথপুর এর প্রধান শিক্ষক তানভীর আহম্মেদ নাজমুস সাকিব তার নিয়োগের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার যে সনদপত্র দাখিল করছেন তার মধ্যে বিএড পাসের যে সনদ দাখিল করেছেন তা একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ইস্যুকৃত। উক্ত সনদের সিরিয়াল নম্বর ১০৩৭১, রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ১০৪৩২৭০৩৬৬, পাসের সন ২০০৫, রেজাল্ট সিজিপিএ ৩.৫০। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উক্ত সনদ যাচাই করে জানিয়েছেন উক্তরূপ সনদের কোন অস্তিত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রারে নেই বা উক্ত নামের কোন প্রশিক্ষণার্থীর স্বপক্ষে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি বা কোন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। প্রধান শিক্ষক তানভীর আহম্মেদ নাজমুস সাকিব ওই জাল সনদের মাধ্যমে বেতন ভাতার জন্য এমপিওভুক্তির পায়তারা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তানভীর আহম্মেদ নাজমুস সাকিব তার জাল সনদের বিষয়টি অস্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বেআইনী, অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত মর্মে প্রতিকার চেয়ে গভর্নিং বডির সভাপতিসহ ৮ জনকে বিবাদী করে গভর্নিং বডির সদস্য ও মোসাঃ শারমিন আক্তার বাদী হয়ে গত মে মাসে কাউখালী সহকারি জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মোকদ্দমা (২৪/২০১৮) দায়ের করেন। উক্ত মোকদ্দমায় বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক তানভীর আহম্মেদ নাজমুস সাকিবের অবৈধ কার্যক্রম ও বেতন ভাতা বিল প্রদানের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনের শুনানী শেষে আদালত নিয়োগের বিরুদ্ধে কেন নিষেধাজ্ঞার আদেশ বলবৎ হবেনা এই মর্মে মাউশি’র ডিজিসহ সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শাতে বলেছিলেন। মামলার বাদী জানান, প্রধান শিক্ষকের বিএড সনদপত্র জালের বিষয়টি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি।
মামলার আরজীতে বলা হয়েছে, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু ঐ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি। তিনি স্থানীয় ও প্রভাবশালী হওয়ায় কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ না করে বেআইনীভাবে বিভিন্ন কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে অবৈধভাবে প্রভাবিত হয়ে পরস্পর যোগাযোগীতে নিজের পছন্দমত উক্ত প্রধান শিক্ষককে অবৈধভাবে নিয়োগ প্রদান করেছেন। উক্ত নিয়োগে প্রচলিত আইন ও বিধি বিধানের চরম লঙ্ঘন করা হয়েছে।
