ঈদের ছুটিতে দেশি-বিদেশী পর্যটকে মুখরিত সুন্দরবন
কোরবানির ঈদের ছুটিতে পর্যটকের (ইকো-ট্যুরিষ্ট) পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সুন্দরবন। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনণ কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে বন প্রহরীদের। সুন্দরবন বিভাগ জানিয়েছে, দেশ-বিদেশ থেকে আশা প্রতিবেশ-পযর্টকদের এ ভিড় থাকবে আরও এক সপ্তাহ ধরে।
ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি জীব-বৈচিত্র্যের আধার। সুন্দরবন শুধু দেশের নয়, বিশ্বের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। বিশেষ করে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের ছুটির দিনগুলোতে অনেক বেশী দেশী-বিদেশী প্রতিবেশ-পর্যটকরা ছুটে আসে সুন্দরবনে। সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনণ কেন্দ্রেটি দূরত্বের দিক দিয়ে লোকালয়ের সবচেয়ে কাছের ও দর্শনীয় হওয়াতে সাধারণত প্রতিবেশ-পর্যটকের ভীড় সারাবছর লেগেই থাকে।
করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ফুট টেইলার, সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার, লবন পানির কুমির, মায়া ও চিত্রল হরিণ, বানর ও বিলুপ্তপ্রায় কচ্ছপ বাটারগুলসহ বিভিন্ন পশু-পাখি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন প্রতিবেশ-পর্যটকরা। করমজল ছাড়াও হাড়বাড়িয়া, হিরণপয়েন্ট, কটকা ও কচিখালী পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের উপস্থিতি বিগত সময়ের তুলনায় কয়েকগুন বেড়েছে।
করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রে শনিবার দুপুরে কথা হয় চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে আসা রবিউল ইসলাম ও সিলেটের গোয়াইনঘাটের মাসুদ রহমানের সাথে। তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুন্দরবনের বন্যপ্রানিসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে উচ্ছাস প্রকাশ করে বলেন, সুন্দরবন দেখতে আসা সার্থক হয়েছে। একই সাথে সুন্দরবনের প্রতিবেশ-পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অধিক সংখক বাথরুম-টয়লেটসহ নদী থেকে ওঠানামার পাকা জেটি ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান।
সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ও গোলাম রহমান বিটু বলেন, প্রতি বছরই সুন্দরবনে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিবেশ-পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য এই মুর্হুতে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে আরো বেশি আকর্ষনীয় ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের ভীড় হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তাদের সার্বিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বপ্ল সংখ্যক প্রহরীদের। তারপরও সাধ্য অনুযায়ী সেবা ও নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। দেশ-বিদেশ থেকে আশা প্রতিবেশ-পযর্টকদের ভিড় আরো এক সপ্তাহ ধরে থাকবে। তিনি আরো বলেন, সরকারী বরাদ্দের অভাবে করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনণ কেন্দ্রের দর্শনার্থীদের চাহিদানুযায়ী দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না সুন্দরবন বিভাগের পক্ষ থেকে।
