প্রধান সূচি

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জালিবোটসহ সকল নৌযান চলাচল বন্ধ : ফিরে যাচ্ছে দেশী বিদেশী পর্যটক

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী প্রায় ৪শ’ জালিবোটসহ লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। এর ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা দেশী-বিদেশী পর্যটক ফিরে যাচ্ছে।
জানা গেছে খুলনা নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা রবিবার মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় থাকা অন্তত ৩০টি জালিবোটের উপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙ্গে সে সকল মালামাল নিয়ে যায়। এতে বোটের সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে বসার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত বোট মালিকেরা নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের এ জাতীয় কর্মকান্ডের প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ফলে সোমবার সকাল থেকে সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সোমবার ভোর থেকে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে দূরদূরান্ত থেকে মোংলার পিকনিক কর্ণারে আসা দেশী-বিদেশী পর্যটকরা জালিবোট ধর্মঘটের কারণে নিরুপায় হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
যশোর থেকে আসা সাজেদ রহমান বলেন, পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে মোংলার পিকনিক কর্ণারে আটকে গেছি। গাড়ী থেকে নামার পর শুনছি সুন্দরবনে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ অন্যান্য নৌযানের ধর্মঘট চলছে। তাই হতাশা নিয়ে গাড়ী ঘুরিয়ে ফিরে যাচ্ছি। দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা তামান্না বেগম বলেন, এখানে এসে দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ, তাই আমরা আর সুন্দরবনে যেতে পারছিনা। কি করবো আর, ফিরে যেতে হবে এখন।
খুলনার চুকনগর থেকে আসা রেজাউল করিম বলেন, আমরা একটি বাসে ৫৪ জন এসেছি। এসে দেখি সুন্দরবনে যাওয়ার সকল নৌযান চলাচল বন্ধ। আসাটাই হলো বৃথা।
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের (খুলনা) হয়রানীর প্রতিবাদে সকল নৌযান মালিকেরা নিজ নিজ থেকে জালিবোট, ট্রলার ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করেছে। ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে প্রায় ৪শ’ লঞ্চ, জালিবোট ও ট্রলার। তিনি আরো বলেন, তারা কিছু শর্তও দিয়েছে, বোট মালিকদের পক্ষে ব্যয়বহুল সে সকল শর্তপূরণ আদৌ সম্ভব নয়। তাই নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের এই হয়রানী বন্ধ না হলে সুন্দরবনগামী এ সকল নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।
সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, সোমবার ভোর থেকেই এখানে কোন নৌযান ও পর্যটক আসতে পারছে না। শুনেছি নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর রবিবার পর্যটকবাহী নৌযানগুলোতে অভিযান চালায়। এই কারণে নৌযান মালিকেরা তাদের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে।
নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, জালিবোটগুলোর উপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। যাতে বোটের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, দুর্ঘটনাকবলিত না হয়। মূলত: আমাদের উদ্দেশ্য হলো পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial