প্রধান সূচি

জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান চাঁন মাঝিকে কারাগারে প্রেরণ : এলাকায় মিষ্টি বিতরণ

পিরোজপুর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. চাঁন মিয়া মাঝিকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ কার হয়। এর আগে এদিন দুপুর দেড়টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিকে, কৃষক লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান চান মিয়া মাঝিকে গ্রেফতার করায় এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছে বিএনপি নেতা-কর্মীসহ এলাকার সাধারণ মানুষজন। ইউনিয়নের চুঙ্গাপাশা, দুর্গাপুর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে এ মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. চান মিয়া মাঝিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা, ঘর ভাঙচুর, লুটপাট, গুলিবর্ষন ও বোমা বিস্ফোরণ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে পিরোজপুর সদর থানায় গত ৭ এপ্রিল একটি মামলা দায়ের হয়। পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম কলিম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় চাঁন মিয়া মাঝি ছাড়াও তার ছেলে মুরাদ হোসেন মাঝি, ভাগ্নে পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার, হারুনার রশিদ বাদশা, মো. মাসুদ মাঝি, রশিদ শাহরিয়ার মাঝি, লোকমান হোসেন হাওলাদার, মহিউদ্দিন হাওলাদার ঝন্টু, সামশুদ্দিন কালু, মো. সাখাওয়াত হোসেন মল্লিকসহ অজ্ঞাত ২৫/৩০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে আলহাজ শামীম বিন সাঈদী ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন। তার নির্বাচনের পক্ষে তৎকালীন জেলা বিএনপি সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম কলিম নির্বাচন করতে ঢাকা থেকে পিরোজপুরের দুর্গাপুরের বাড়িতে আসেন। আওয়ামী কৃষক লীগের পিরোজপুর জেলা সভাপতি চান মিয়া মাঝির নেতৃত্বে ২০১৮ মালের ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ২০/২৫ জন অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী বাহিনী পিরোজপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের চাঁন মিয়া মাঝির বাড়ির সামনের ব্রীজের ঢালে তার (জহিরুল ইসলাম কলিম) গাড়ি থামিয়ে গাড়ি ভাংচুর করে এবং গাড়ির মধ্যে থাকা ধানের শীষ প্রতীকের পোষ্টার ও লিফলেট ছিনিয়ে নেয়। এসময় হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পরদিন ২৯ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার দিকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জেলা কৃষক লীগের সভাপতি চাঁন মিয়া মাঝির নেতৃত্বে ৫০/৬০জন সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা, চাইনিজ কুড়াল, রামদা, হকিস্টিক ও দেশীয় লাঠিসোটা নিয়ে জহিরুল ইসলাম কলিমের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা কলিমের বাড়ির সামনে বন্দুক ও পিস্তল দিয়ে ২০/২৫ রাউন্ড গুলি ও ৮/১০টি বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করে। এসময় তারা কলিমের ঘরের প্রধান ফটক দাও দিয়ে কুপিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে ভাংচুর করে এবং স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। তারা কলিমের বৃদ্ধ মায়ের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে এবং কলিমকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পরে জীবন বাঁচাতে কলিম পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি উক্ত ঘটনায় কোন মামলাও করতে পারেন নি।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালের একটি ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে চাঁন মিয়া মাঝি নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান চাঁন মিয়া মাঝির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সরকারের সময়ে এলাকায় বিরোধী মতাদর্শের লোকজনকে হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানী, হিন্দুদের জমি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পরপর দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়াসহ দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৪ বারের চেয়ারম্যান ছিলেন চাঁন মিয়া মাঝি। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।
এ বিষয়ে দূগাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আনিছুর রহমান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালে চাঁন মাঝি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব করেন। ইউনিয়নের তার কথাই ছিল আইন। সে সময়ে বিএনপি নেতা-কর্মীসহ তার বিরোধী লোকজন বাড়িতে থাকতে পারতো না। মামলা-মকদ্দমা দিয়ে তাদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি বাড়ি থেকেও তার বাহিনীর সদস্যরা লোকজন ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিতো।
তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ইউনিয়নের নগরবাড়ি বাজারের এক হিন্দু পরিবারের ভিটি দখলে নিয়ে ভোগদখল করে চলছেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial