প্রধান সূচি

সাবেক সেনা কর্মকর্তা সরোয়ারকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা

সাবেক এমপি আউয়ালসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর ব্যারিষ্টার এম. সরোয়ার হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ীবহরে হামলার ঘটনার ১৩ বছর পর পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি একেএমএ আউয়ালসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ইন্দুরকানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার রাতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্যরিষ্টার এম. সরোয়ারের হোসেনের ভাগ্নে মো. মাছুম হাওলাদার বাদী হয়ে ইন্দুরকানী থানায় এজাহার দাখিল করলে ওসি মামলাটি রেকর্ড করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্যারিষ্টার এম. সরোয়ার হোসেন ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর এলাকায় তার সমর্থকদের নিয়ে যায়। সে সময়ের আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপি একেএমএ আউয়ালের নির্দেশে তার অনুসারী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন সেপাই’র নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান, মিরাজ রহমান ও কবির ব্যাপারীসহ ৯/১০ সন্ত্রাসী তার উপর হামলা করে তার প্রাইভেটকার ও সমর্থকদের মোটর সাইকেল ভাংচুর করে। এ ঘটনায় তখন থানায় অভিযোগ দিতে গেলে অভিযোগ নেয়নি পুলিশ। গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনার পতনের পর সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়ালসহ হামলাকারী ৪ যুবলীগ নেতা ও অজ্ঞাত ৫ জনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত মামলার আসামী যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমানের কাছে এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১১ সালে মেজর সরোয়ার ভাই চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গেলে যুবলীগ নেতা নাসির উদ্দিন সেপাই’র নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২জন তার গাড়ী বহরে হামলা করে। খবর শুনে আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের হয়ে দেখি সে চলে গেছে। ঐ ঘটনার সাথে আমি ও আমার ভাই মিরাজ জড়িত নই।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্যারিষ্টার এম. সরোয়ার হোসেন জানান, আওয়ামী সরকারের শাসনামলে ২০১১ সালে আমার নিজ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকায় ঈদের পর এলাকবাসীর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যাই। তখন সে সময়ের আওয়ামী লীগের এমপি একেএমএ আউয়ালের নির্দেশে তার সমর্থক আওয়ামী-যুবলীগের নাসির উদ্দিন সেপাই’র নেতৃত্বে মিজানুর রহমানসহ ৯ থেকে ১০ জনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাকে হত্যার উদেশ্যে হামলা করে আমার গাড়ী ভাংচুর করে। তখন থানায় মামলা দিতে গেলে মামলা নেয়নি পুলিশ। এখন সময় এসেছে তাই থানায় অভিযুক্ত সাবেক এমপি আউয়ালসহ এজাহারে নামীয় ৫ ও অজ্ঞাত ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মারুফ হোসেন জানান, ২০১১ সালে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্যারিষ্টার এম. সরোয়ার হোসেন ইন্দুরকানী থানার চন্ডিপুর এলাকায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গেলে সে সময়ের এমপি একেএমএ আউয়ালের নির্দেশে তার সমর্থকরা সরোয়ার হোসেনের গাড়ীতে হামলা করে ভাংচুর করে। ১৩ বছর পর এ ঘটনায় সাবেক এমপি একেএমএ আউয়ালসহ হামলায় জড়িত তার ৫ সমর্থক ও অজ্ঞাত ৪ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিল করলে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, একেএমএ আউয়াল ২০০৮ সালে পিরোজপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তিনি আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় ২য় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বর্তমানে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি। ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাবেক এমপি একেএমএ আউয়াল আত্মগোপনে রয়েছেন। ৫ আগষ্ট বিকেলে তার পিরোজপুরের পাড়েরহাট রোডস্থ বাসভবনে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial