প্রধান সূচি

বিড়াম্বনাময় জীবন

কোলাহল ছেড়েছি, নিস্তব্দতাকে করেছি সংঙ্গী,
নিদ্রাহীন রাত চলে যায় সকালের অপেক্ষায়
আশাহত এই আমি চেয়ে থাকি জানালায়।
অপরিণত বয়সে ভুল পথে হেঁটেছি, গোলাপে কাঁটা ভেবে আপন করেছি ধুতুরা।
ষোড়ষী হবার পরে,
ভুলকে ভুল করেছি, হাসতে ভুলেছি, কাঁদতে শিখেছি;
চেয়ে চেয়ে দেখেছি একের পর এক মৃত্যুর খেলা,
মা, বাবা, ভাই, বোন আর অকৃত্রিম ভালোবাসা ….
মৃত্যুকে সত্য জেনে,
মাতৃভ্রুণে জন্মেছি একবার, বিশ্বাস হারিয়ে জন্মেছি দ্বিতীয়বার
তারপর !
তারপর প্রতারককে বিশ্বাস করে জন্মেছি একবার, ঠকে গিয়েও জন্মেছি বহুবার।
এরপর ….
এরপর আমার জন্ম প্রতি মূহূর্তে !
বিস্ময় আতংক আর হৃদয়ের জঠরে বেড়ে ওঠা এক বুক কষ্ট।
সেদিন ছিল রবিবার,
মধ্য রাতে বেনামী ডাক এসেছে মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে।
তারপর কেটেছে চৌত্রিশ বছর একমাস সাতদিন তিন ঘন্টা সাতাশ মিনিট পঁয়তাল্লিশ সেকেন্ড।
হিসেব নিকেষের দ্বন্ধে উত্তরের পত্র রেখেছি সাদা।
আমার হাসি আজ ম্লান হয়েছে,
কান্নারা করেছে আত্ম গোপন, অত:পর শিখেছি মেনে নিতে
বয়সের দোষে নিজে ভুলের কাছে দিয়েছি নিজেকে বিসর্জন,
শেষে অন্যের অধীনে অন্যের মতে অন্যের স্বপ্নে কাটিয়েছি বাকীটা বছর
শেষঅব্দী,
আজও সেই খেলা চলে মহাকালের গর্ভে,
নি:সঙ্গতার কাঁধে চড়েছে একাকিত্ব, আর বাধ সেধেছে ভাগ্যের বিড়ম্বনা
এখন যাচ্ছে দিন, নেমেছে আরেক রবিবারের কুয়াশা ঘেরা এক দু:খীনী প্রভাত,
শূণ্যস্থানে বসেছে মায়াবী তারা অন্য বীথীর ছায়া।
সেখানে খাঁ খাঁ করে রৌদ্র আর দ্রুপদীর আহাজারী,
বেদনাহত চাতক পাখি আছরে পড়ে সীমানা টপকে,
বেদনার নীলজলে স্নান করে সুভ্র সুনীল কোন এক সন্ধ্যা,
আবারিত মাঠ পেরিয়ে ছুটে চলা ভুলে গেছি
স্তব্ধতাকে সঙ্গী করে নিরবতাকে আপন করেছি, ভুলে গেছি কোলাহল, হেরে গেছি বার বার।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial