পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাচন
মজিবুর রহমান খালেকের প্রার্থীতা সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত
আসন্ন পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান খালেক এর প্রার্থীতা স্থগিত করার আদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৪ জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত ফুল বেঞ্চে মঙ্গলবার ইতিপূর্বে দেয়া হাইকোর্টের একটি আদেশের উপর স্থগিতাদেশ দেয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে আগামী ৮ মে অনুষ্ঠিতব্য পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে এস এম বায়েজিদ হোসেন এবং মো. শফিউল হক (মিঠু) মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। তাদের মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বৈধ ঘোষনা করেন এবং তাদের অনুকূলে প্রতিকও বরাদ্দ দেয়া হয়।
বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান খালেক ১৫ এপ্রিল জমা দানের শেষ তারিখে অনলাাইনে মনোনয়ন পত্র জমা না দিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করে আবেদন করেন যে, জমা দানের শেষ দিনে তিনি অনলাইনে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
জেলা রির্টানিং অফিসার মো. মিজানুর রহমান লিখিতভাবে জানান যে মজিবুর রহমান খালেক আদৌ মনোনয়ন পত্র জমা দানের কোন চেষ্টাই করেননি। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান এবং বিচারপতি কে এম জাহিদ সরোয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ ওই রিট মামলায় মজিবুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতার সুযোগ এবং প্রতীক বরাদ্দ দিতে রির্টানিং অফিসারকে আদেশ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম বায়েজিদ হোসেন সুপ্রিম কোর্টে আপিল দায়ের করেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৮ জন বিচারপতির ফুল বেঞ্চ আপিলের শুনানী শেষে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত ঘোষণা করেন। সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে মজিবুর রহমান খালেক আগামী ৮ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না।
সুপ্রিম কোর্টে এস এম বায়েজিদের পক্ষে আইনজীবি ছিলেন এ্যাটর্নী জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবি সমিতির সম্পাদক শাহ মঞ্জুরুল হক এবং সিনিয়র আইনজীবি প্রবীর নিয়োগী। অন্যদিকে রিট আবেদনকারী মজিবুর রহমান খালেকের পক্ষে আইনজীবি ছিলেন এস এম আবুল হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজা।
আপিলকারীর পক্ষের আইনজীবি প্রবীর নিয়োগী হাইকোর্টের আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মজিবুর রহমান খালেক তার রিট মামলায় অপর ২ প্রার্থী এস এম বায়েজিদ হোসেন এবং শফিউল হক মিঠুকে প্রতিপক্ষ না করে রিট মামলা দাখিল করেন এছাড়া রিটকারী অগ্রণী ব্যাংকের ঋণ খেলাপী হওয়ার কারণে তার মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাইয়ে অবৈধ ঘোষিত হবে এই আশংকা থেকে রির্টানিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন পত্র দাখিল না করে সুকৌশলে হাইকোর্টে এসব বিষয়ে গোপন রেখে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন মর্মে আদেশ নিয়েছিলেন।
