প্রধান সূচি

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী নারী নেত্রী কাজী রুহিয়া বেগম হাসি

পিরোজপুরের রাজনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ নারী নেত্রী কাজী রুহিয়া বেগম হাসি। বেশ সময়কাল ধরে তিনি পিরোজপুরসহ উপকূলীয় অঞ্চলে নারীর অধিকার সুরক্ষা ও সমাজসেবায় নিবেদিত হয়ে কাজ করছেন। সরকারের বিভিন্ন দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ সাধারণ জনসাধারণের মাঝে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন।
তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে (আসন নং-১৯) সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তার আশা জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অবহেলিত পিরোজপুরসহ উপকূলীয় এলাকার জনমানুষের উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন।
কাজী রুহিয়া বেগম হাসি তার নিজের গড়া সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান ‘শ্যামক’ এর মাধ্যমে পিরোজপুরে তৃর্ণমূলের নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করছেন টনা ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে। এই কাজে তার সাফল্য রয়েছে অনেক।
কাজী রুহিয়া বেগম হাসি নির্যাতিত নারীদের পক্ষে আইনগত সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি সুুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে নানা সহযোগিতা করে আসছেন।
ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হওয়ার পর থেকে আজ অবধি সক্রিয়ভাবে দলীয় কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করে আসছেন কাজী রুহিয়া বেগম হাসি। তিনি পিরোজপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে সক্রিয় রয়েছেন।
পিরোজপুরের কাউখালী মহিলা ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পরিষদের সদস্য, শির্ষা আছিয়া খাতুন মাধ্যমিক স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য, পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, দেশদশ আর্থসামাজিক ও মানব উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নির্বাহী সদস্য সচিব, অরুনোদয় মহিলা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি পিরোজপুর জেলার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন নারী নেত্রী কাজী রুহিয়া বেগম হাসি।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত (নারী) আসনে মনোনয়নের বিষয়ে কাজী রুহিয়া বেগম হাসি বলেন, আমার নিজের চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। আমি মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই। আগামী দিনগুলোতেও আমি মানুষের পাশে থাকতে চাই। আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত। সকল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আমি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছি। আমার বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সংরক্ষিত নারী আসন-১৯ এ আমাকে এবার মনোনয়ন দিতে বিবেচনা করবেন। আমি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে চাই।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাজী রুহিয়া বেগম হাসির জন্ম ১৯৫৪ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের নানা বাড়িতে। তাঁর বাবার নাম কাজী আব্দুল করীম এবং মায়ের নাম হালিমা খাতুন। বাবা ছিলেন আইনজীবী ও শিক্ষক। মা গৃহিণী হলেও নীরবে সমাজসেবামূলক কাজ করেছেন।
তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় কাজী রুহিয়া বেগম হাসি। চট্টগ্রামের কুসুম কুমারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী থাকাকালে তাঁর বাবা সেখানে একটি কলেজের শিক্ষকতা করেছেন। পরে বাবা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ফলে তখন তাঁদের সংসারে অন্ধকার নেমে আসে। পরিবারে আর উপার্জনকারী ব্যক্তি না থাকায় সন্তানদের নিয়ে মা চলে আসেন পুরনো বাসস্থল কাউখালী উপজেলার শির্ষ্যা গ্রামে। সেখানে একটি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন হাসি। সংসারের বড় মেয়ে হওয়ায় তাঁকে লড়তে হয় নানা বৈরী পরিস্থিতির সঙ্গে। তখন যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো ছিল না। মাইলের পর মাইল হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হতো।
শির্ষ্যা মডেল প্রাইমারি স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় তৎকালীন যশোর বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। পরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে কাউখালী মাইনর স্কুলে ভর্তি হন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াবস্থায় হাসির বিয়ে হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মেরিন প্রকৌশল বিভাগে কর্মরত একই গ্রামের কাজী আব্দুল লতিফের সাথে। বিয়ের পর তিন বছর তাঁর পড়াশোনা বন্ধ থাকে। পরে পিরোজপুরে মায়ের কাছে এসে পড়াশোনা শুরু করেন। অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার শেষ দিনে তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম। তিনি ১৯৬৯ সালে মেট্রিক পাস করেন। পরে সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে এইচএসসি এবং বড় ছেলের চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণকালে হাটহাজারী কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন রুহিয়া বেগম হাসি। তিনি দুই ছেলে এবং এক কন্যা সন্তানের জননী।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী হাসি শৈশব থেকেই স্বাধীনচেতা। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন। সেই লক্ষ্যেই তৎকালীন পিরোজপুর মহাকুমার নেতা এনায়েত হোসেন খানের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন। পাকিস্তানে অবস্থানরত চাকরিজীবী আত্মীয়-স্বজনরা বার্তা দিয়েছিলেন নৌকার পক্ষে কাজ করতে। ১৯৭০-এর নির্বাচনে তিনি নৌকার পক্ষে কাজ করতে শুরু করেন।
তখন তিনি পিরোজপুর, বরিশাল অঞ্চলসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সান্নিধ্যে রাজনীতির সুযোগ পান। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানের সঙ্গেও ছিল কাউখালী উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কাজী রুহিয়া বেগম হাসি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial