আ’লীগ-স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘাত
লালন হত্যাকান্ডে জড়িতদের শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ
পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের নির্বাচনী সহিংসতায় লালন ফকির নামে এক যুবক হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবী করে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল সমর্থিত জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
তারা নিহত লালন ফকিরকে যুবলীগ কর্মী ও তাদের (একেএমএ আউয়াল) সমর্থক দাবী করে বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের টাউন ক্লাব চত্ত¡র থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে উপজেলা পরিষদ মোড়ে পথসভায় মিলিত হয়।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন, সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সিকদার মন্টু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদউল্লাহ লিটন, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম মিরণ, যুবলীগ নেতা ইরতিজা হাসান রাজু, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন সিকদার, জেলা ছাত্রলীগ নেতা বারী তালুকদার জয়েন প্রমুখ।
এসময় বক্তারা লালন ফকির হত্যার ঘটনায় পিরোজপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, বর্তমান এমপি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকে দায়ী করে তার (মন্ত্রী) বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান ও বক্তব্য দেয়। তারা মন্ত্রীর ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত পিরোজপুর সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এস এম বায়েজিদকে লালন হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে তার শাস্তির দাবী জানান।
উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পরে পিরোজপুর সদর উপজেলার শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল এর সমর্থক লালন ফকির ও তার সহযোগীরা এ হামলা ও ভাংচুর করে বলে নৌকা মার্কার সমর্থকদের অভিযোগ। এ হামলার ঘটনার পরে ঐ রাতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী পিরোজপুর-আসনের বর্তমান এমপি এবং মৎস্য ও পাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এর সমর্থক বাবু শেখের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন কর্মী সমর্থক লালনের উপর হামলা চালিয়ে এলোপাতারি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এরপর রাতেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে খুলনা ও পরে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু ঘটে।
