ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবেলায় পিরোজপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি
ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবেলায় পিরোজপুর জেলা সদরসহ জেলার ৭টি উপজেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে দুর্যোগ মোকাবেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, পিরোজপুরে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ মোকাবেলায় সকল ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলায় ৪০৭টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত করা হচ্ছে। সিপিপি’র ২৪০০ স্বেচ্ছাসেবক, যুব রেডক্রিসেন্টের ২৮০জন স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন এনজিও’র অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে।
সরকার ও রেড ক্রিসেন্টের তহবিলে সাড়ে আট লাখ টাকা নগদ অর্থ, কম্বল, ৫০ বান্ডিল ঢেউটিন, ৪১২ মেট্রিক টন চাল আপতকালীন মজুদ রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের ৫৩টি মেডিকেল টিম ও প্রায় সাড়ে তিনলাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় উদ্ধারযান বিভিন্ন সরকারি বিভাগের হাতে মজুদ রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেড, আনসার, বিদ্যুৎ বিভাগ জরুরীভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সফিউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ এর প্রভাবে পিরোজপুরে সোমবার রাতভর বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশ ছিল মেঘলা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পিরোজপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ এর প্রভাবে ইন্দুরকানীর নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মঙ্গলবার সারাদিন উপজেলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিসহ গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করেছে।
উপজেলার কঁচা, বলেশ্বর নদ-নদীগুলোতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ৭ ফুট বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার নি¤œাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ। ২২ দিন ইলিশ ধরায় অবরোধ থাকায় গভীর সাগরে ইন্দুরকানীর কোনো জেলে নেই।
উপজেলার সাঈদখালীচর, কালাইয়া, সন্নাসী, টগড়া, বালিপাড়াসহ নদী পাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রস্তত করা হয়েছে ২০টি সাইক্লোন শেল্টার।
