প্রধান সূচি

জমি নিয়ে বিরোধ : বড় ভাইয়ের হামলায় ছোট ভাই আহত

পিরোজপুরের নাজিরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আপন বড় ভাই তাপস কুমার ভক্তের হামলায় ছোট ভাই সরুপ কুমার ভক্ত (৪২) গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ভর্তি করা হয়েছে।

সরুপ কুমার ভক্ত উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নের বাকসি গ্রামের মৃত সুমান্ত কুমার ভক্তের ছোট ছেলে এবং ঢাকার বি.এফ. শাহিন কলেজের শিক্ষক।

সরুপ কুমার ভক্ত জানান, আমার বড় ভাই তাপস কুমার ভক্ত পিরোজপুর জজকোর্টের আইনজীবী হওয়ার সুবাদে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চোর চক্রের সহায়তায় এলাকায় একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। সে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে একা ভোগদখলের জন্য তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে এবং আমার মা-বোনদের উপর বিভিন্ন সময় হামলা করে আসছে। আমি চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকলে আমার ছোট ভাই আমাকে বাড়িতে না আসার জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। আমি বাড়িতে আসলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমি বাড়িতে আসলে মঙ্গলবার রাতে আমার সুপারি বাগানে বড় ভাইয়ের চোর চক্রের সদস্যরা সুপারি চুরি করতে এসে আমার উপস্থিতি টের পেয়ে চোরের সাথে থাকা গামছা, দেশীয় অস্ত্র কোচ, গাছ থেকে পারা সুপারি রেখে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। চোরের রেখে যাওয়া মালামাল বুধবার সকালে স্থানীয় মহসিন এর চায়ের দোকানে উপস্থিত লোকজনকে দেখালে আমার বড় ভাই ক্ষিপ্ত হয়। পরবর্তীতে আমি চায়ের দোকান থেকে ফেরার পথে আমার ভাইয়ের নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য এসকেন্দার মিনার ছেলে রাশেদুল মিনা, মৃত আজিজ হাওলাদারের ছেলে সহিদ হাওলাদার, সোহরাব সেখের ছেলে এমদাদুল সেখ, দুলাল মাঝির ছেলে মিজান মাঝি, কাসেম সেখের ছেলে জুম্মান সেখসহ অজ্ঞাত আরো ৭/৮ জন আমাকে এলোপাথারিভাবে মারতে থাকে। এসময় আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমার জ্ঞান ফিরলে জানতে পারি স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য অসোক সিকদার জানান, ওরা যে মারামারি শুরু করছিলো তাতে স্থানীয় লোকজন বাধা না দিলে সরুপকে মেরে ফেলতো। এদের ব্যাপারে বলার কিছু  নেই। সন্ত্রাসী যে হোক না কেন তার উপযুক্ত শাস্তি হোক এটা চাই।

ঘটনার বিষয়ে তাপস ভক্ত জানান, সরুপ আমার ছোট ভাই। ওর সাথে জমি-জমা নিয়ে কোন বিরোধ নেই। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে প্রায় ৩০ জন লোক নিয়ে সরুপ আমার ঘেরে ঢুকে আমার ঘেরের কর্মচারীকে ভয়ভীতি দেয়। এ বিষয় আমার কর্মচারী আমাকে জানালে আমি সকালে লোকজন নিয়ে ছোট ভাইর কাছে বিষয়টা জানতে চাইলে সে লোকজনের সামনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তখন আমি তাকে দুই-একটা চড় দেই, এর বেশি কিছু হয় নি। আর আমি হিন্দু এলাকায় বসবাস করি, আমার ছোট ভাই একটা মুসলমান মেয়েকে বিয়ে করছে যেটা আমি নৈতিকভাবে পছন্দ করি না। যার জন্য আমি সবসময় তার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।

নাজিরপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রুম্পা মুৎসুদ্দি জানান, সরুপ ভক্ত নামে একজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছি এবং কোমরের একটি এক্সরে করতে বলেছি। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবির জানান, আমরা বিষয়টি শুনেছি এবং তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভিকটিম হাসপাতালে ভর্তি আছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তীতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial