গ্রাম পুলিশের নেতৃত্বে রিক্সাচালককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন : হাসপাতালে ভর্তি
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে দফাদার (গ্রাম পুলিশ) মো. বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে আকাব্বার হোসেন নামে এক রিক্সাচালককে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাতে উপজেলার গাবগাছিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। আহত রিক্সাচালককে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তার স্বজনেরা রাতেই উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার গাবগাছিয়া গ্রামের হতদরিদ্য রিক্সাচালক আকাব্বার আলী সারাদিন রিক্সা চালিয়ে রাতে বিলে মাছ ধরতে যায়। এসময় স্থানীয় দফাদার (গ্রাম পুলিশ) মো. বেলায়েত হোসেন দূর থেকে লাইটের আলো দেখে তার সাথে থাকা তার ছোট ভাই তাজুল হোসেন ও তার সহযোগী মিজানুর রহমানকে রিক্সা চালক আকাব্বার আলীকে ডেকে আনতে বলে। রিক্সা চালক রাতে মাছ ধরছে বললেও তাকে দফাদার, তার ভাই তাজুল ও মিজানুর রহমান চেইন ও রড দিয়ে আকাব্বারের হাত, পা, পায়ের তলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে ফেলে রেখে। এসময় তাকে চোর বলে আখ্যায়িত করে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কবির হোসেন ও তার স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর হাসপাতালে ভর্তি করে।
অসুস্থ্য রিক্সাচালক আকাব্বার হোসেনের ভাই মোনোহার হোসেন জানান, আমার ভাই সারাদিন রিক্সা চালিয়ে রাতে মাছ ধরতে গেলে স্থানীয় বেলায়েত দফাদার, তার ছোট ভাই তাজুল ও মিজান মিলে তাকে ডেকে নিয়ে রড ও চেইন দিয়ে পিটিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা অভিযুক্ত দফাদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করবো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কবির হোসেন রিক্সা চালককে পেটানোর কথা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তিনি রিক্সা চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
অভিযুক্ত দফাদার মো. বেলায়েত হোসেন জানান, রিক্সা চালককে রাতে মাছ ধরতে নিষেধ করলে সে শুনে না। এলাকায় মাঝে মাঝে চুরির ঘটনা ঘটছে। তাই তাকে চোর সন্দেহে আমার ছোট ভাই ও মিজান তাকে কয়েকটা পিটান দিয়ে আমার কাছে নিয়ে আসে।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. এনামুল হক জানান, দফাদার আইন অমান্য করে মাছ ধরতে যাওয়া এক রিক্সা চালককে পিটিয়ে আহত করেছে। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা মামলা দিলে মামলা নেওয়া হবে।
