প্রধান সূচি

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে ও হামলার বিচার দাবীতে ১১ ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ২নং মালিখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল দাঁড়িয়ার বিরুদ্ধে অনাস্থা এবং বিভিন্ন অন্যায়, অত্যাচার ও ইউপি সদস্যদের উপর হামলার প্রতিকার ও বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ওই ইউনিয়নের নির্বাচিত ১১ জন ইউপি সদস্য।
গতকাল শনিবার দুপুরে পিরোজপুর প্রেসক্লাবে ওই ইউনিয়নের ৩জন নারী ও ৮জন পুরুষ ইউপি সদস্য উপস্থিত হয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বর মনোজ কান্তি মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, ২নং মালিখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল দাঁড়িয়ার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত ১৬ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদের ১১জন ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসক ও নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল দাঁড়িয়ার নামে অনাস্থাপত্র দাখিল করেছেন। এর পরিপেক্ষিতে গত ৭ এপ্রিল নাজিরপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার শেখ আব্দুল্লাহ সাদিদ ওই ১১জন ইউপি সদস্যকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠান।
গত ৭ এপ্রিল নির্বাচিত ১১জন ইউপি সদস্য সকাল ১০টার দিকে মালিখালী ইউনিয়ন থেকে উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আসার পথে বেলা সাড়ে১১টার দিকে নাজিরপুর হাসপাতাল সম্মুখে টেম্পুস্টান্ডে এলে মালিখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল দাঁড়িয়া নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আল-আমিন শেখ, উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য শান্ত ইসলাম শোভন, পল্লব রায়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আশিকুল ইসলামসহ ২৫/৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ইউপি সদস্যদের উপর হামলা করে। হামলায় ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কদম আলী শেখ, ইউপি সদস্য মনোজ কান্তি মন্ডল, মহিলা ইউপি সদস্য নাসরিন আক্তার গুরুতর আহতসহ অন্য ৮জন ইউপি সদস্যরা কমবেশী আহত হয়। সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে এ সময় মহিলা ইউপি সদস্যদের মারধর করে এবং শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। আহত ইউপি সদস্যরা নাজিরপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও সন্ত্রাসীরা সেখানে গিয়েও তাদের উপর হামলা চালায় এবং হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। পরে গুরুতর আহত ইউপি সদস্যদের পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করানো হয়। বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে হামলায় আহত ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কদম আলী শেখ ও ইউপি সদস্য মনোজ কান্তি মন্ডল চিকিৎসাধীন আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, এ সকল বিষয়ে নাজিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করলেও থানায় কোন মামলা নেয়নি।
উল্লেখ্য, মালিখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল দাঁড়িয়া ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন করে নির্বাচিত হন।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমীন বাবলু জানান, হামলার ঘটনার দিন তিনি নাজিরপুরেই ছিলেন না। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার প্রতিপক্ষের সহযোগিতায় ও ইন্দনে মেম্বাররা এমন অভিযোগ দিচ্ছেন।
নাজিরপুর থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ২নং ওয়ার্ডের মেম্বর নাজমুল হাওলাদার, ৩নং ওয়ার্ডের নাসির উদ্দিন শেখ, ৪নং ওয়ার্ডের তপন মন্ডল, ৫নং ওয়ার্ডের সুজিত গাইন, ৬নং ওয়ার্ডের মনোজ কান্তি মন্ডল, ৭নং ওয়ার্ডের মো. নাসিম শেখ, ৮নং ওয়ার্ডের মো. শহিদুল মোল্লা, ৯নং ওয়ার্ডের মো. কদম আলী শেখ এবং সংরক্ষিত আসনের নাসরিন আক্তার, শোভা রানী মন্ডল ও সামছুন্নাহার উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial