বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রাজিবকে চাপা দেয়া ঘাতক বাসের ড্রাইভার আটক ॥ জেল হাজতে প্রেরণ
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পিরোজপুরের সন্তান গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক কাজী মশিউর রহমান রাজিবকে চাপা দেয়া ঘাতক বাসের ড্রাইভারকে গ্রেফতার করেছে নাজিরপুর থানা পুলিশ।
ইমাদ পরিবহনের উক্ত ড্রাইভার রুহুল আমিন শেখকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুজ্জামান। গ্রেফতার হওয়া ড্রাইভার রুহুল আমিন শেখ পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা এলাকার শামসু সেখের পুত্র। এর আগে ইমাদ পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব ১৫-৬৪৫৯) বাসটিকে আটক করে পুলিশ।
নিহত রাজিবের পিতা পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাজী মজিবুর রহমান জানান, গত ১৩ অক্টোবর বিকেলে গোপালগঞ্জ যাওয়ার পথে ইমাদ পরিবহনের ঘাতক বাসটি রাজিব ও তার পরিবারকে চাপা দেয়। এতে রাজিব মারা যায় এবং তার পরিবারের সদস্যরা এখনো ঢাকায় চিকিৎসারত আছে। ঘটনার পরে ১৪ অক্টোবর তিনি (কাজী মজিবুর) বাদী হয়ে নাজিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি ঘাতক ইমাদ পরিবহনের ড্রাইভারের উপযুক্ত শাস্তির দাবী করেন।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুজ্জামান জানান, ইমাদ পরিবহনের বাসটিকে আগেই আটক করা হয়েছে এবং বাসের ড্রাইভার রুহুল আমিন শেখকে সোমবার (১ নভেম্বর) গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কাবিরাজ বাড়ী এলাকায় ঢাকা থেকে পিরোজপুরগামী ইমাদ পরিবহনের সাথে নিহত রাজিব ও তার পরিবারের বহনকারী অটোরিক্সার মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। এতে অটোরিক্সায় থাকা গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক কাজী মশিউর রহমান রাজিব, অটোরিক্সা চালক, রাজিবের স্ত্রী ও পুত্র গুরুত্বর আহত হয়। আহতাবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নাজিরপুর হাসপাতালে নেয় হয়। পরে তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। খুলনা নেওয়ার পথে অটোচালক মারা যান এবং খুলনা হাসপাতালের নেওয়ার পরে রাজিব মারা যায়। রাজিবের স্ত্রী ও পুত্র গুরুতর আহত অবস্থায় এখনো ঢাকায় চিকিৎসারত আছে।
