পিরোজপুরে এহ্সান গ্রুপে গ্রাহকের জমাকৃত টাকা ফেরত পাওয়ার দাবীতে ফিল্ড অফিসারদের সংবাদ সম্মেলন ॥ আদালতে আরও মামলা দায়ের
পিরোজপুরে এহসান গ্রুপে গ্রাহকের জমাকৃত টাকা ফেরত না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুফতি মাওলানা রাগীব অহসান ও তাদের ভাইদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ফিল্ড অফিসাররা (এফও)। এদিকে জমাকৃত টাকা ফেরত পেতে পিরোজপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন জেলার নাজির উপজেলার ক্বারী মো. শামসুল হক। পিরোজপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ৩ কোটি ৯৬ লক্ষ ৩ হাজার ৯৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এছাড়া জমাকৃত অর্থ আদায়ের লক্ষে আরও বেশ কয়েকজন গ্রাহক বাদী হয়ে পিরোজপুর আদালতে কয়েকটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
পিরোজপুর প্রেসক্লাবে সোমবার দুপুরে জেলার নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ি-দোবড়া, মালিখালী, কলারদোয়ানিয়া ও সদর নাজিরপুর ইউনিয়নের এহ্সান গ্রুপের একদল ফিল্ড অফিসার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এহসান গ্রুপের ভুক্তভোগী ফিল্ড অফিসারদেরদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে মামলার বাদী ক্বারী মো. শামসুল হকের ছেলে ও এহসান গ্রুপের ফিল্ড অফিসার মাওলানা মাসউদুর রহমান বলেন, সুদমুক্ত সমাজ গড়ার কথা বলে এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাগীব আহসান বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমামদের ফিল্ড অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেন। তার এ সুদবিহীন বিনিয়োগের দাওয়াতে উদ্ভুদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ফিল্ড অফিসাররা টাকা এনে এহসানে জমা রাখেন। বিভিন্ন সময় টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত চেয়ে না পেয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ৩ কোটি ৯৬ লক্ষ ৩হাজার ৯৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলাটি করা হয়। এ সময় তিনি বলেন, উল্লেখিত ৪টি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রায় ৬ কোটি টাকার উপর জমা আছে এহসান গ্রুপের কাছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ফিল্ড অফিসার মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমামরা আক্ষেপ করে বলেন, আজ এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে যে, মানুষের কাছ থেকে নেওয়া টাকার জন্য এলাকায় থাকতে পারছি না। মাদ্রাসার শিক্ষকদের লোকজন বিশ্বাস করছে না। এলাকার ৩/৪টি মাদ্রাসা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকার সাধারণ মুসুল্লিরা এইসব ইমামদের পিছনে নামাজও আদায় করতে চান না।
সংবাদ সম্মেলনে ফিল্ড অফিসাররা প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী জানান, এহাসানের এখনও স্থাবর অস্থাবর সম্পদ যা কিছু আছে অবিলম্বে সব বাজেয়াপ্ত করে সাধারণ গ্রাহকদের জমাকৃত টাকা ফেরত দেয়া হোক।
উল্লেখ্য, অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পিরোজপুর থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার তোফখানা এলাকা থেকে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মুফতি মাওলানা রাগীব আহসান এবং তার ভাই আবুল বাশারকে গ্রেফতার করে র্যাব-১০। একই দিন বিকেলে তার অপর দুই ভাই মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও মো. খাইরুল ইসলামকে পিরোজপুর সদর উপজেলার খলিশাখালী গ্রামের নিজ বাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পিরোজপুর থানার পুলিশ। পরে এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাগীব আহসান ও তার অপর তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে পিরোজপুর সদর থানায় আরও ৪টি মামলা দায়ের করা হয়।
এহসান গ্রুপের গ্রাহক ও ফিল্ড অফিসার পিরোজপুর সদর উপজেলার তেজদাসকাঠী এলাকার বাসিন্দা হারুন অব রশীদ বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারকৃত রাগীব আহসান ও তার তিন ভাইকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২১ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের পুনরায় কারাগারে প্রেরণ করেন।
এদিকে, পিরোজপুর সদর থানায় এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৫টি মামলা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সিআইডি ও পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি মামলা সিআইডিকে এবং একটি মামলা পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরে দায়েরকৃত ৪টি মামলায় গ্রেফতারকৃত রাগীব আহসান ও তার তিন ভাইকে আদালতের মাধ্যমে শ্যোন এ্যারেষ্ট করা হয়েছে।
এদিকে, পিরোজপুর জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মানস কুমার বৈরাগী জানান, এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাগীব আহসান ও তার তিন ভাই গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তিনি বিভিন্ন গ্রাহকদের পক্ষে এ পর্যন্ত ৮টি মামলা দায়েরা করেছেন আদালতে। এডভোকেট মানস আরও জানান, পিরোজপুর রাগীব আহসান ও তার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে পিরোজপুর আদালতে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫টিরও বেশী মামলা দায়ের হয়েছে।
