প্রধান সূচি

পিরোজপুরে ‘ক্রিস্টাল মেথ আইস’ মাদকসহ ইউনিয়ন আ’লীগ সেক্রেটারী গ্রেফতার

পিরোজপুরে ভয়াবহ মাদক ‘ক্রিস্টাল মেথ আইস’ সহ সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম খান রাজ (২৭)কে গ্রেফতার করেছে বরিশাল র‌্যাব-৮। গ্রেফতারকৃত মাসুম খান একজন চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী।
আজ রবিবার বেলা ১২টার দিকে র‌্যাব-৮ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাসুম খানকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃত মাসুম খান রাজকে রবিবার দুপুরে পিরোজপুর সদর পিরোজপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় বরিশাল র‌্যাব-৮ এর ডিএডি মো. আল মামুন শিকদার বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর ৩৬ (১) সারনির ১০ (ক) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-০৯)।
বলিশাল র‌্যাব-৮ সূত্র জানায়, শনিবার রাত অনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটের সময় পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের ওদনকাঠী গ্রামের আটককৃত মাসুম খানের বাড়ির সামনের ইটের রাস্তার উপর বসে মাদক জাতীয় দ্রব্য বেচা-কেনা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলেও মাসুম খান দৌঁড়ে পালানোর সময় তাকে আটক হয়। এ সময় তার কাছে থাকা ১শ’ গ্রাম ‘ক্রিস্টার মেথ আইস’ নামের মাদক উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা।
এদিকে, অপর একটি সূত্র জানায় শনিবার (১৭/০৭/২০২১) বিকেলে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে উক্ত ‘ক্রিস্টার মেথ আইস’ নামের মাদকের চালানটি পিরোজপুরে আসে। মাসুম খানের এক জুনিয়র সহযোগী কুরিয়ার সার্ভিস থেকে চালানটি ছাড়িয়ে সন্ধ্যায় মাসুমের কাছে পৌঁছে দেয়।


গ্রেফতারকৃত মাসুম খান রাজ জেলার সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের ওদনকাঠী গ্রামের মৃত মতিউর রহমান খানের ছেলে এবং টোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। তিনি পিরোজপুর পৌর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১নং যুগ্ন আহবায়ক বলেও জানা গেছে। পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের ছবি এবং তার (মাসুম) ছবি সংযুক্ত বিভিন্ন পোষ্টার ও ব্যানারে এসব পদ-পদবী লেখা রয়েছে। তিনি সদ্য অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে টোনা ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
জানা গেছে, মাসুম খান মাদক ব্যবসার মাধ্যমে হঠাৎ করে নব্য ধনাঢ্য ব্যক্তিতে পরিনত হয়েছেন। সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত সম্প্রতি তার নির্মিত প্রসাদময় বাড়িতে বসেই চলতে মাদক ব্যবসাসহ মাদকসেবনকারীদের আড্ডা। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকের চালান আনা এবং বিভিন্ন স্থানে মাদকদ্রব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য তার রয়েছে একটি বাহিনী। রাতারাতি সম্পদশালী হয়ে যাওয়া মাসুম খান রাজ পিরোজপুরের রাজনীতির মাঠেও খরচ করতেন অঢেল টাকা। সরকার দলীয় একটি রাজনৈতিক মহল বিশেষের বিভিন্ন শো-ডাউন এবং রাজনৈতিক প্রোগ্রামে নিজ অর্থায়নে লোকজনও নিয়ে আসতেন।
এদিকে, মাসুম খান মাদকসহ গ্রেফতার হওয়ার পরে তার দলীয় পরিচয়ের বিষয়ে অস্বীকার করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শংকরপাশা ইউপি চেয়ারম্যান এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম শিকদার মন্টু জানান, মাসুম খান টোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তবে ওই কমিটি আমাদের বর্তমান উপজেলা কমিটি এখনও অনুমোদন দেই নি। তবে তোফাজ্জেল হোসেন মল্লিক স্বপন জানান, তাদের পূর্ববর্তী উপজেলা কমিটি মাসুম খানকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে কিনা তা তার জানা নেই।
এ বিষয়ে টোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং নবনির্বাচিত টোনা ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান আলম খান হারুন জানান, মাসুম খান তার কমিটিরই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত।


এদিকে, ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী পিরোজপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মতিউর রহমান সরদার এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি (সম্পতি মৃত্যুবরণকারী) শাহজাহান খান তালুকদার স্বাক্ষরিত এক পত্রে ইমরান আলম খান হারুনকে সভাপতি এবং মাসুম খান রাজকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছরের জন্য ৬৯ সদস্য বিশিষ্ট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি আ.জ.ম মাসুদুজ্জামান জানান, আটক মাদক ব্যবসায়ীকে র‌্যাব পিরোজপুর থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক সূত্র জানান, আটককৃত মো. মাসুম খান রাজ একজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়া তার স্ত্রী সানজানা মারিয়া ও এক ভাই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এর আগে মাদকসহ মাসুমের স্ত্রী ও এক ভাই গ্রেফতার করা হয়েছিল।
ঢাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক খুরশীদ আলম বলেন, ইয়াবায় এমফিটামিন থাকে পাঁচ ভাগ আর ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের পুরোটাই এমফিটামিন। ক্রিস্টাল মেথ বা আইস। এ মাদক দেখতে অনেকটা চিনির দানার মতো। এটি অন্য যেকোন মাদকের চেয়ে ভয়াবহ। নতুন এ মাদকে আসক্ত হচ্ছেন অভিজাত বা উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা।
এটি ইয়াবার চেয়ে অনেকগুণ বেশি ক্ষতিকর মাদক। ইয়াবার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে মানবদেহে।
মাদকাসক্তি বিষয়ক গবেষক ও ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এমদাদুল হক বলেন, ইয়াবা বা হেরোইন হল ওপিয়ামের বাইপ্রডাক্ট। এগুলো থেকেই প্রসেস করে এখন নতুন নতুন মাদক তৈরি হচ্ছে। আইসও এমন একটি নতুন মাদক।
তিনি বলেন, মিয়ানমার ও ভারতের বাইরে থেকেও কিছু লোক এর বিস্তারে কাজ করছে। আফ্রিকান অঞ্চলে এর নেটওয়ার্ক আছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial