রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে ম্যারাথন সন্ত্রাসী হামলা ॥ আহত-৭
রাজনৈতিক কোন্দল, পূর্ব শত্রুতা, অটোস্ট্যান্ড নিয়ে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র পিরোজপুরে ম্যারাথন সন্ত্রাসী হামলা, মারধর, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে, সন্ধ্যা ও সকালে এসব ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলা ও মারধরের ঘটনায় এ পর্যন্ত দুটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম বাদল।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক কোন্দল, অটোরিক্সা ও অটোটেম্পু মালিক সমিতির কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের সিও অফিস ব্রিজের উত্তর পাশে জনস্বাস্থ্য অফিসের সামনের রাস্তায় উপর বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মিরাজকে মারধর করার ঘটনা ঘটে। সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুমন সিকদার, সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম জিহানের নেতৃত্বে ২০/২১ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী সন্ধ্যা ৭টার দিকে শেখ মিরাজের উপর হামলা করে তাকে মারধর করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় মিরাজের ভাই শেখ রিয়াজ বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুমন সিকদার, সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম জিহানসহ ২১জন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জনকে আসামী করে পিরোজপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
আহত মিরাজের ভাই শেখ রিয়াজ জানান, মিরাজকে হত্যার উদ্দেশ্যেই সুমন সিকদার ও জিহানের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে।
শেখ মিরাজের উপর হামলা ও মারধরের ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাতেই শেখ মিরাজের গ্রুপ প্রতিপক্ষ গ্রুপ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম জিহানের বাড়ীসহ পাশ্ববর্তী অপর এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্ত্রাসী হামলায় এসময় দুই বাড়ীর নারী শিশুসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের উত্তর শিকারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জহিরুল ইসলাম জিহানের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জিহানের পিতা শাহজাহান ফকির জানান, শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে ২০/৩০ জনের একটি সন্ত্রাসীদল তাদের বাড়ির ওপর এলোপাথারি হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের ভয়ে তখন ঘরের দরজা আটকে রাখলেও সন্ত্রাসীরা দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকেসহ নারী ও শিশুদের জিম্মী করে। ঘরের ভিতরের টিভি, ফ্রিজ, আলমারী, রান্না করা ভাতের হাড়ি ও আসবারপত্র ভাংচুর ও তছনছ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এসময় আলমারীতে থাকা ৫০-৬০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও নারীদের গলায় থাকা স্বর্নের চেইন লুটে নেয়।
প্রবাসী রাজু ফকিরের ভাই রনি ফকির জানান, সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করে বাড়ির ভিতরে এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে। এসময় হামলাকারীরা তার ভাবীকে মারধর করে এবং ভাবীর গলায় থাকা স্বর্নের চেইন লুটে নেয়। সন্ত্রাসীরা ঘরের ভিতরে থাকা ফ্রিজ, আলমারী ও আসবারপত্র ভাংচুর করে।
এদিকে, অটোস্ট্যান্ড নিয়ে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ গ্রুপ হামলা চালিয়ে এস কে রাজিউল ইসলাম ওরফে সাগর (৩৭) নামে এক যুবকের পা ভেঙ্গে দিয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর শহরের রাজারহাট শান্তনা বেকারীর মোড় সড়কে এ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে অবস্থিত অটোস্ট্যান্ড এর কর্তৃত্ব ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ অহিদ সেখের নেতৃত্বে ৮/১০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল সাগরে উপর হামলা করে লোহার হাতুড়ি, জিআই পাইপ ও লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে একটি পা ভেঙ্গে দেয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন সাগরকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখান তেকে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত সাগর বাদী হয়ে অহিদ সেখকে প্রধান আসামী করে নামীয় ৭জন ও অজ্ঞাতনামা আরও ৬/৭ জনকে আসামী করে পিরোজপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
এসব হামলার ঘটনায় পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম বাদল জানান, একই দিন ও রাতে তিনটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলগুলোতে গিয়েছে। এসব হামলার ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরও হামলার প্রস্তুতি চলছে। হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
