তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিনির্মাণে অবিরাম কাজ করছে সরকার : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ ও তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিনির্মাণে সরকার অবিরাম কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয়। বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ তথা একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিস্ময়কর অগ্রগতির জন্য যাকে প্রশংসা করতে হয়, কৃতজ্ঞতা জানাতে হয় তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ৪২তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২০ ও ৫ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২০ উপলক্ষ্যে পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজ্ঞান মেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বশির আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হাকিম হাওলাদার ও পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান।
এসময় পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহজাহান খান তালুকদার, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান ফুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী, কৃষকলীগের জেলা সভাপতি চান মিয়া মাঝি, পিরোজপুরের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গৌতম নারায়ণ রায় চৌধুরী, পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম বায়েজিদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আজকের ক্ষুদে বিজ্ঞানীরাই সম্ভাবনার বাংলাদেশ সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এরাই আগামী দিনের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক হবে। এরাই আমাদের জাতিকে পথ নির্দেশ করবে। আমাদের সন্তানদের বিজ্ঞানমনস্ক করতে পারলে, তথ্য প্রযুক্তির দিকে আকৃষ্ট করতে পারলে, তারা অনেক কিছু করতে পারবে। সারা বিশ্বে বিস্ময়কর সব সৃষ্টি বাঙালিরা করছে। আমাদের সন্তানদের মেধা আছে। আসুন সন্তানদের বিজ্ঞানমনস্ক করি, আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করি এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধের জায়গায় তাদের উজ্জ্বীবিত করি। নৈতিকতা ও মূল্যবোধে উজ্জ্বীবিত করতে না পারলে পুঁথিগত শিক্ষা অর্থহীন হয়ে যাবে।
পরে মন্ত্রী পিরোজপুর সদর উপজেলার ৮টি বিদ্যালয় ভবনের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে সস্প্রসারিত করা ও উপযুক্ত করার জন্য সকল পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়েছেন। কারণ তিনি মনে করেন শিক্ষা কোন অনুকম্পা নয়, শিক্ষা অধিকার।
পরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষককে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেয়ার জন্য সরকার কাজ করছে। শেখ হাসিনার দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে দেশের কোথাও এখন সার-কীটনাশকের সমস্যা নেই। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের পরিকল্পনা নিয়ে শেখ হাসিনা সরকার কাজ করে চলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের আওতায় প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।
এ দিন তিনি পিরোজপুরের ঝাটকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন, পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাডেমিক ভবনের সস্প্রসারিত অংশ এবং কলেজের ১৩২ শয্যা বিশিষ্ট পাঁচ তলা ছাত্রী নিবাসের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তিনি কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেন। কলেজ অধ্যক্ষ সৈয়দ আলী আজমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম এ হাকিম হাওলাদার প্রমুখ।
বিকেলে মন্ত্রী পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা সম্মিলিত বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ১৬ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং বিজয়ীদের মাঝে ট্রফি বিতরণ করেন।
