প্রধান সূচি

নাজিরপুরে চাঁদার দাবীতে সাবেক সেনা কর্মকর্তার সম্পত্তি ভোগ দখলে বাঁধা

পিরোজপুরের নাজিরপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তা তার সম্পত্তি দখল পেতে বছরের পর বছর স্থানীয় মাতুব্বরসহ জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে এখন দিশেহারা। চাঁদার দাবীতে তাকে ওই সম্পতি ভোগ দখলে বাঁধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ওই সাবেক সেনা কর্মকর্তার। এ ঘটনায় স্থানীয় মাতুব্বরসহ জনপ্রতিনিধিদের ভুমিকাও রহস্যজনক বলে দাবী করছেন তিনি। ওই সেনা কর্মকর্তার নাম মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নাজিরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ওই সেনা কর্মকর্তা। অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চাকুরী জীবনের শেষ সম্বল পেনশনের টাকা দিয়ে বাড়ী করার জন্য ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী নাজিরপুর উপজেলার ৩৬ নং দিঘীয়া মৌজার এসএ ৩৬৬ ও ২৮৬নং খতিয়ান থেকে ৪১ শতক বাগানবাড়ীসহ জমি রেকর্ডীয় মালিক পার্শ্ববর্তী নেছারাবাদ উপজেলার নান্দুহার গ্রামের বাসিন্দা মো. মুজিবর রহমান ও শাহানুর বেগমদের কাছ থেকে সাব-কবলা মুলে ক্রয় করি। পরে মো. মুজিবর রহমান ও শাহানুর বেগম তাকে নিয়ে সরেজমিনে সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে গেলে শাহানুরের চাচাতো ভাই স্থানীয় আউয়াল ও আবু বক্কর তাদের লোকজন নিয়ে বাঁধা দেয় এবং তাদের ওপর আক্রমন করে। এ সময় আউয়াল বলেন, শাহানুর বেগমের কোন ভাই নেই তার পৈত্রিক সম্পত্তি ক্রয় করতে হলে তাদের মাধ্যমে করতে হবে। তাদের ছাড়া ওই সম্পত্তি ক্রয় করলে ভোগ দখল করতে দেয়া হবে না। এ সময় অভিযুক্ত আউয়াল ২ লাখ টাকা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা দিলেই তিনি সম্পত্তি ভোগ দখল করতে পারবে বলে জানানো হয়। দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করে বিষয়টি স্থানীয় মাতুব্বরসহ জনপ্রতিনিধিদের জানানো হয়।

ভুক্তভোগী সেনা কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান আরো বলেন, আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নন কমিশন অফিসার হিসেবে চাকুরী শেষে ২০১৬ সালের ১১ জুলাই অবসর গ্রহণ করি। চাকুরী জীবনের শেষ সম্বল পেনশনের টাকা থেকে এসএ ও বিএস রেকর্ডীয় মালিকদের কাছ থেকে বৈধ সম্পতি ক্রয় করেছি। পরে তা আমি নিজের নামে নামজারীও করেছি। খাজনাও দিয়ে আসছি। সেই সম্পত্তি ভোগ দখল করতে আমার চাঁদা দিতে হবে কেন?  বিষয়টি স্থানীয় মাতুব্বরদের বার বার জানিয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করে বছরের পর বছর ঘুরছি, কোন ফয়সালা পাচ্ছি না। অভিযুক্ত আউয়াল মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত না হওয়া সত্যেও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবী করছে। সেই প্রভাব খাটিয়ে আমার কাছে টাকা দাবী করছে। টাকা না দেয়ায় আমার সম্পত্তি ভোগ দখলে বাঁধা দিয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আউয়ালের সাথে কথা হলে তিনি এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি যাদের কাছে সম্পত্তি ক্রয় করেছে তারা এসে সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দিবে। আমার এখানে কি করার আছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাসনাত ডালিম জানান, আমি বিষয়টি ফয়সালা করার জন্য বার বার উদ্যোগ নিয়েছি। অভিযুক্তদের অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম মুনির জানান, এ ধরণের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial