প্রধান সূচি

পিরোজপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে অর্থসহ মালামাল লুটের অভিযোগ

পিরোজপুরে কদমতলায় পল্লী বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎ পৃষ্ট হয়ে গরু মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একই পরিবারের তিনজনকে হাতুড়ি পেটাসহ নগদ অর্থ ও মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মোতালেব শেখের মেয়ে রাবেয়া বেগম স্বাক্ষরিত বুধবার সাংবাদিকদের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার অনুপ শিকদারের বাড়ির বিদ্যুতের তারে পৃষ্ট হয়ে তাদের একটি গাভী মারা গেলে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে তারা অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার দুপুরে এই অভিযোগ দেয়া নিয়ে অনুপ শিকদারের সাথে মোতালেব সেখের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনা জানতে পেরে কদমতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হানিফ খান রোকজন নিয়ে ঘটনাস্থল পোরগোলা মোতালেবের বাড়ি হাজির হয়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান হনিফ খান হাতুড়ি ও গাব গাছের লাঠি নিয়ে মোতালেব সেখের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। এসময় বাবাকে বাঁচাতে ছেলে ইমরান ও মেয়ে শিরিন আক্তার এগিয়ে এলে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ইমরান ও শিরিনকে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলাপাথারি পিটিয়ে আহত করে। এ পেটোয়া বাহিনীতে অংশ নেয় জাহাঙ্গীর, আল আমীন, অনুপ শিকদার, কবির শেখ ও আবুল সরদার। পুরো পরিবারকে পিটিয়ে আহত করার পর তারা মোতালেবের ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং ঘরে থাকা নগদ ১৭ হাজার টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
আহত মোতালেব সেখ জানান, আমার প্রায় এক লাখ টাকার গাভীটি ঝুকিপূর্ণ বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারা যায়। গাভীটিকে বাঁচাতে গিয়ে আমরাও মরতে বসেছিলাম। এ কথাই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানিয়ে আবেদন করি। এলাকার চেয়ারম্যান হানিফ খান এ বিষয়ের ফয়সালা না করে নিজের হাতে আমাকে মেরে আহত করেছে। সন্তানরা বাঁচাতে এলে তাদের মেরেছে। ঘরের মারামাল ভাংচুর করে নগদ অর্থসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
মোতালেব সেখের মেয়ে রাবেয়া বেগম জানান, হামলায় তিনসহ আহতরা পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হামলার ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে বুধবার বিকেলে পিরোজপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান হানিফ খান বলেন, পল্লী বিদ্যুতের লোকরা ঝুকিপূর্ণ বিদ্যুতের তারের সংস্কার করতে এলে মোতালেব সেখ এবং তার ছেলে মেয়েরা বাঁধা দেয়। ওই এলাকার জাহাঙ্গীর মেম্বর এ কথা আমাকে জানায়। আমি ওই মেম্বরসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে সেখানে যাই। তার ছেলে ইমরান আমাদের দিকে তেড়ে আসে এবং খুব খারাপ ব্যবহার করে। ওই পরিস্থিতিতে আমার সাথের লোকজন ওদের মেরেছে। শুনেছি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এ ব্যাপারে পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরুল ইসলাম বাদল জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial