চাঁদা না দেয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ
পিরোজপুরের নাজিরপুরে দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই সাংবাদিকের নাম শামসুল আরেফিন। তিনি ‘একাত্তর জার্নাল’ নামক অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ বেশ কয়েকটি মিডিয়ায় পিরোজপুর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তিনি নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের মুগারঝোর গ্রামের মৃত সেকেন্দার আলী বেপারীর ছেলে।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মুনিরুল ইসলাম নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী মুনিরুল ইসলাম নাজিরপুর উপজেলার গাওখালী বাজারের ‘মের্সাস ভাই ভাই মেডিকেল হল’ নামক ওষুধের দোকানের স্বত্তাধিকারী। গত ৭ এপ্রিল বিকেলে উপজেলার উত্তর লেবুজিলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান (আসাদ মেকার) ওই ওষুধের দোকান থেকে ‘নিওবিয়ন’ নামক একটি ইনজেকশন ক্রয় করেন। এ সময় তিনি ইনজেকশনটি ওই বাজারের পল্লী চিকিৎসক শংখপতির মাধ্যমে তার শরীরে প্রয়োগ করান। ইনজেকশনটি প্রয়োগ করার পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দাবী করে ওই ইনজেকশনটি মেয়াদ উত্তীর্ণ বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ করলে পরে দিন ৮ এপ্রিল বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান ও এসিল্যান্ড ফাহমি মো. সায়েফ সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করেন। তারা ইনজেকশনটি মেয়াদ উত্তীর্ন ছিলো এমন কোন প্রমান পাননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ করে কাঙ্খিত প্রতিকার না পেয়ে আসাদুজ্জামান একই ঘটনায় নাজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের আলোকে বৈঠাকাটা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মাহিদুল ইসলামও সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করেন। তার তদন্তেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে ওই সাংবাদিক বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়ার কথা বলে ওষুধ ব্যবসায়ী মুনিরুল ইসলামের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবী করেন। তিনি দাবীকৃত টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় ঘটনার ২১ দিন পরে গত ২৮ এপ্রিল ‘ভাই ভাই মেডিকেল হল’ ও তার স্বত্তাধিকারী মুনিরুল ইসলামকে জড়িয়ে ‘একাত্তর জার্নাল’ নামক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘নাজিরপুরে মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেকশন প্রয়োগে মৃত্যু পথযাত্রী হয়ে বেঁচে আছেন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। যা ওই সাংবাদিক শামসুল আরেফিনের নামেই প্রকাশ হয়।
ঘটনার ২১ দিন পরে এবং অভিযোগের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তদন্তের পরে সংবাদটি প্রকাশিত হলেও ওই সংবাদে তদন্তকারী সংস্থার কারো কোন মতামত বা বক্তব্য উল্লেখ নেই। এমনকি যার বিরুদ্ধে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে তারও আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক কোন বক্তব্য উল্লেখ নেই।
ওষুধ ব্যবসায়ী মুনিরুল ইসলাম বলেন, ইনজেকশনটি বিক্রি করার সময় মেয়াদ যাচাই করে দেয়া হয়েছে এবং যে পল্লী চিকিৎসক প্রয়োগ করেছেন তিনিও মেয়াদ যাচাই করে প্রয়োগ করেছেন। এমনকি প্রয়োগ করার পরে ইনজেশনের কাঁচের ভাঙ্গা শিশিটি তিনি নির্ধারিত জায়গায় ফেলেও দিয়েছেন। তাছাড়া উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটি আলাদা আলাদা ভাবে তদন্ত করেছেন। তাদের তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হলে অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হতো। প্রশানিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ার ওই সাংবাদিক মিমাংসা করে দেয়ার কথা বলে আমার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবী করে। তাকে ওই টাকা না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ঘটনার ২১ দিন পরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাংবাদিক শামসুল আরেফিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বৈঠাকাটা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান থানায় লিখিত অভিযোগ করলে ওসি সাহেবের নির্দেশে আমি সরেজমিনে তদন্ত করি। তদন্ত কালে জানতে পারি যে, ঘটনার পরদিনই ইউএনও মহোদয় বিষয়টি তদন্ত করেছেন। তাছাড়া অভিযোগকারী অভিযোগ প্রমানের স্বপক্ষে কোন সাক্ষ্য প্রমান উপস্থাপন করতে পারেনি। তদন্তকালে আমি যে পল্লী চিকিৎসক অভিযোগকারীর শরীরে ইনজেকশনটি প্রয়োগ করেছেন তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছি তিনি জানান, সে মেয়াদ যাচাই করেই ইনজেকশনটি পুষ করেছেন এবং পুষ করা শেষে কাঁচের শিশিটি নির্ধারিত জায়গায় ফেলেও দিয়েছেন। তাহলে অভিযোগকারী ফেলে দেয়া সে শিশিটি পেলেন কোথায়? সর্বপরি ওই মেডিসিন দোকানদার যে মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেকশন বিক্রি করেছেন তা প্রমান করা সম্ভব হয়নি। তাই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।
ইউএনও মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান জানান, অভিযোগকারী ও মেডিসিন দোকানদার দুজন পরস্পর বিরোধী বক্তব্য রেখেছেন। তাছাড়া কোন স্বাক্ষী প্রমান পাওয়া যায়নি। এমনকি অভিযোগকারী আসাদুজ্জামানও অভিযোগ প্রমান করতে পারেনি। তাই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এ ঘটনার ২১ দিন পরে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ সংক্রান্তে মেডিসিন দোকানদার ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওসিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
