পিরোজপুর জেলা লকডাউন ঘোষণা ॥ শহরে লোক সমাগম কমেনি
পিরোজপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন সাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে পিরোজপুর জেলাকে সম্পুর্নভাবে অবরুদ্ধ বা লকডাউন ঘোষণা করা হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বল হয়েছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষে গঠিত জেলা কমিটির জরুরী সভায় ও পিরোজপুর সিভিল সার্জন এর সুপারিশক্রমে সংক্রমণ রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রন ও নির্মূল আইন-২০১৮ সনের ৬১নং আইনের ১১(১)(২)(৩) ধারা মোতাবেক প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবেলায় পিরোজপুর জেলাকে অবরুদ্ধ (লকডাউন) ঘোষণা করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে এ জেলায় জনসাধারণের প্রবেশ এবং প্রস্থান নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক মহাসড়ক ও নৌপথে অন্য কোন জেলা থেকে এ জেলায় কেউ প্রবেশ কিংবা অন্য কোন জেলায় গমন করতে পারবে না। এছাড়া জেলার অভ্যান্তরে আন্তঃউপজেলা যাতায়েতের ক্ষেত্রেও একইরূপ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সকল ধরনের গণপরিবহন জনসমাগম বন্ধ থাকার নির্দেশ বিজ্ঞপ্তিতে দেয়া হয়েছে। তবে, জরুরী পরিসেবা, চিকিৎসা সেবা, কৃষিপণ্য, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ ও সংগ্রহ লকডাউনের আওতার বহির্ভুত থাকবে।
বরিশাল খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কযোগে এ জেলার উপর দিয়ে অন্যান্য জেলার আন্তঃসংযোগ লকডাউনের বহির্ভুত থাকবে। তবে জেলা ও উপজেলার যে কোন সীমানা দিয়ে যানবাহন প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ থাকবে।
আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, পিরোজপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হলেও তা পিরোজপুরবাসীর অনেকেই জানেন না। এ বিষয়ে তেমন কোন প্রচারণাও করেনি জেলা প্রশাসন। রাত ১১টার পরে প্রশাসনের ফেজবুক আইডিতে লকডাউন ঘোষণার আদেশের কপি প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার সকাল থেকেই পিরোজপুরের প্রধান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় লোকজনের সমাগম দেখা গেছে। শহরে রিক্সা, ইজিবাইকসহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। শহরের কাঁচাবাজার বন্ধ থাকলেও সকাল থেকেই মুদি মনোহরি ও মাছ-মাংসের বাজারের প্রচুর লোক সমাগম ছিল। শহরে জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সমিতির ব্যবস্থাপনায় ট্রাকে করে ভ্রাম্যমান কাঁচা বাজারের পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতে দেখা গেছে।
পিরোজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. হাসনাত ইউসুফ জাকি জানান, পিরোজপুর জেলায় এ পর্যন্ত ৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর সনাক্ত হয়েছে। জেলায় ৭৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। জেলার নাজিরপুর ও মঠবাড়িয়া উপজেলায় দুইজন করোনা রোগী আইসোলেশনে আছেন। জেলা সদরের হাসপাতালসহ জেলায় ৫৭টি আইসোলেশন বেড রয়েছে। জেলায় বর্তমানে ৪৮৭ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।
