বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের মহিলাসহ তিন সদস্য আটক
বিকাশের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্য পিরোজপুরে আটক হয়েছে। বুধবার আটক তিনজনকে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এই চক্রের সদস্য সামসুন্নাহার মুক্তা (৩০), তার স্বামী উজ্জল মিয়া (৪০) ও তার ভাই ফয়সালকে (২৫) সদর থানার পুলিশ পিরোজপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে জনতার সহায়তায় গ্রেফতার করেছে। আটক উজ্জল মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বেড়াডাঙ্গা এবং মুক্তা ও ফয়সাল বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চর হোগলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
প্রকাশ, মঙ্গলবার দুপুরে প্রতারক চক্রের এই তিন সদস্য পিরোজপুর পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে বিকাশ এজেন্ট মো. মিলন সেখের দোকানে টাকা বিকাশ করতে আসে। প্রথমে মুক্তা ২৫ হাজার টাকা একটি নম্বরে (০১৮৯৩৯০১২৬৬) বিকাশ করে। এরপর একই নম্বরে আরও ৫৪ হাজার ৬০ টাকা বিকাশ করে। এ সময় বিকাশ এজেন্ট টাকা চাইলে মুক্তা কৌশলে সটকে পড়ার চেষ্টা করে। তখন স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ তাদের থানায় এনে রাতে এই তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সদর থানায় মামলা রুজু করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানায়, উক্ত টাকা ঢাকার গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বিকাশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আসামী মুক্তার সাথে উজ্জলের ফোনালাপের পর কয়েক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। উজ্জল পিরোজপুরে বাদাম বিক্রির ছলে তার স্ত্রী ও শ্যালক ফয়সালের সহায়তায় বিকাশে টাকা পাঠানোর কৌশলে বিভিন্œ সময় অর্থ আত্মসাত করতো। পিরোজপুর সদর থানার এস আই নুরুল আমীন জানান, আসামীরা দেশব্যাপী তৎপর একটি সিন্ডিকেটের সদস্য। আসামী ফয়সাল মোড়েলগঞ্জ থানায় মোকলেছ নামে একজনকে খুন করার মামলার এজাহারভূক্ত আসামী।
এদিকে, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী থানার পাড়েরহাট ইউনিয়নের ইউপি মেম্বর আব্দুর রাজ্জাক ও সদর থানার শংকরপাশার রবিউল নামে জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তি আসামীদের পক্ষে তদবির চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তার আত্মীয় মুক্তার মা তাকে পীড়াপীড়ি করায় তিনি আসামীদের থানা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন।
