১ নভেম্বর সুন্দরবন দস্যুমুক্ত ঘোষণার বর্ষপূর্তি
আগামীকাল ১ নভেম্বর সুন্দরবন দস্যুমুক্ত ঘোষণার এক বছর পূর্তি হচ্ছে। গত বছরের এই দিনে (১ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ ৬টি বনদস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত’র ঘোষণা দেন। এলিট ফোর্স র্যাব সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার প্রথম বার্ষিকী পালনে শুক্রবার সকালে বাগেরহাট স্টেডিয়ামে আয়োজন করেছে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের।
বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র্যাবের ডিজি মো. বেনজীর আহম্মদ, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম, খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামছুল হক টুকুসহ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত থাকবেন বলে র্যাব নিশ্চিত করেছে।
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার প্রথম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা আত্মসমর্পণকৃত সকল বনদস্যুদের দেয়া হবে আর্থিক অনুদান ও উপহার সামগ্রী।
এক সময়ে সুন্দরবন দাঁপিয়ে বেড়ানো দন্ডমুন্ডের কর্তা বনদস্যু বাহিনীগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম র্যাবের আহবানে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণে এগিয়ে আসে মাস্টার বাহিনী প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টারসহ ৯ বনদস্যু। ২০১৫ সালের ৩১ মে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের ফুয়েল জেটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে ৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দিয়ে তার আত্মসমর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে বনদস্যু মানজার বাহিনী, মজিদ বাহিনী, বড় ভাই বাহিনী, ভাই-ভাই বাহিনী, সুমন বাহিনী, দাদা ভাই বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আমির বাহিনী, মুন্না বাহিনী, ছোট শামছু বাহিনী, মানজু বাহিনী, সূর্য বাহিনীসহ ২৬টি বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করে। সর্বশেষ গত বছরের ১ নভেম্বর বাগেরহাট স্টেডিয়ামে সত্তার বাহিনী, শরিফ বাহিনী, সিদ্দিক বাহিনী, আল-আমিন বাহিনী, আনারুল বাহিনী ও তৈয়ব বাহিনীর বনদস্যুরা আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকৃত ৩২টি বাহিনী প্রধানসহ সর্বমোট ৩২৮ বনদস্যু সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। তারা র্যাবের হাতে তুলে দেয় ৪৬২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩৩ হাজর ৫০৪ রাউন্ড গোলাবারুদ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গত বছরের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর ম্যানগ্রোভ এই বনে বইছে শান্তির সুবাতাস। বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড এই বনের জীববৈচিত্র্য। বন্ধ হয়েছে জেলে-বনজীবীদের মুক্তিপনের দাবীতে অপহরণ ও দেশী-বিদেশি চোরাকারবারীদের চাহিদা মতো হরিণ, বাঘ-কুমির শিকার ও পাচার। পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত জলাভূমির রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির ও কিংকোবরাও হাফছেড়ে বাচেঁ।
