প্রধান সূচি

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্প

কারিগরি অদক্ষতার কারণে নির্মাণ কাজ শুরুর পরপরই বন্ধ

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে উন্নীতকরণের প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর পরই কর্তৃপক্ষের প্রযুক্তিগত অদক্ষতার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।
৩৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দের গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই প্রকল্পটি ১৮ মাস মেয়াদে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারিত হলেও ইতিমধ্যে আট মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু ১২ তলা ভিত্তির এই ভবন নির্মাণ করতে প্রিকাস্ট পাইল বসানোর কাজ শুরুর প্রথম পর্যায়ই হ্যামার ব্যবহারে বিপত্তির কারণে এ কাজ কর্তৃপক্ষ চার সপ্তাহ ধরে বন্ধ রেখেছে। ৯০ ফুট দীর্ঘ প্রিকাস্ট পাইল বসানোর কাজে ডিজেল হ্যামার ব্যবহার করায় জেলা হাসপাতালের ক্যাম্পাসের বিদ্যমান দ্বিতল-ত্রিতল ভবনসহ প্রশাসনিক, আবাসিক এবং পাশ্ববর্তী সরকারি বেসরকারি ও আবাসিক ভবনসমূহের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। এ হ্যামার ব্যবহার করে ৬২০টি কংক্রিটের পাইলের মধ্যে শুরুতে ২৫/৩০টি বসানোর পর কম্পন শুরু হয়। এতে ২০০ মিটার দূরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের খোদ নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরসহ আবাসিক ভবনসমূহ সিভিল সার্জন অফিস, নার্সিং ইনস্টিটিউট, হাসপাতাল ভবনসহ পাশর্^বর্তী ভবনগুলো কাঁপতে থাকে। হাসপাতালের পুরোনো ভবনে ছাদসহ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে এ ধরণের হ্যামার ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তোলে।
এ অবস্থায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের নির্মাণ শাখার একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গত ১৫ জুন পিরোজপুরে এসে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পাইল বসাতে ডিজেল হ্যামারের ব্যবহার বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার যে লক্ষ্য ছিল তা এখন অনিশ্চিত বলে অবস্থাদৃষ্টে দেখা যায়।
প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বঙ্গ বিল্ডার্স এন্ড মেসার্স খান বিল্ডার্স (জেভি)’র প্রতিনিধি ও সাইট ম্যানেজার কবির হোসেন জানান, ৬২০টি প্রিকাস্ট পাইল বসানোর কাজ শুরু করার পর ইতিমধ্যে ২৫টি বসানো হয়েছে। কাজ বন্ধ না হলে আরও ২৫০টি বসানো সম্ভব হতো। ডিজেল হ্যামার ব্যবহার বন্ধ করে দেয়ায় এখন অটোমেটিক হাইড্রলিক হ্যামার বা ডিজিটাল ভাইব্রেটার হ্যামার ছাড়া উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পাইল বসানোর সুযোগ নেই। বাংলাদেশে বেসরকারি পর্যায়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে অটোমেটিক হাইড্রলিক হ্যামার রয়েছে হাতে গোনা দুই-একটি। যা সংগ্রহ করে কবে কখন পাইল বসানোর কাজ শুরু হবে তা বলা দুস্কর।
এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোল্লা রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আশা করছি অতি দ্রুতই শুরু করতে পারবো। হাইড্রেলিক হ্যামার সংখ্যা আমাদের দেশে অতি কম বলে তা সংগ্রহ করা সময় সাপেক্ষ। তারপরও এই হ্যামার সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তবে প্রকল্পের ব্যয় কিছুটা বাড়বে বলে তিনি জানান।
এদিকে, এ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের ডিজাইন, প্লান ও এস্টিমেট করার সময় যথাযথভাবে সার্ভে করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প এলাকার আশেপাশে জেলা হাসপাতালের দ্বিতল ভবনসহ অনেক সরকারি বেসরকারি ভবন রয়েছে। তা বিবেচনায় না রেখেই প্রিকাস্ট পাইল বসানোর কাজে ডিজেল হ্যামার ব্যবহার শুরু করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতার কথাও উঠেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের পিরোজপুর বিভাগীয় অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু কর্মকর্তাদের অভিমত হাইড্রলিক বা ভাইব্রেটার হ্যামার ব্যবহার করে পাইল বসানোর কাজ করতে হলে প্রকল্প ব্যয় আরও আড়াই কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ করতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্বিগুন লাগবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট এই প্রকল্পের কার্যাদেশ দেয়া হয়। যা সম্পন্ন করার মেয়াদ ১৮ মাস। ১২ তলা ভিতের ঊর্ধ্বমূখী ৭ তলা ভবন নির্মাণে সেমি বেইজমেন্ট ও গাড়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থাসহ ১৪ হাজার ৩০০ বর্গফুট আয়তনের এই হাসপাতাল ভবন নির্মিত হলে তা হবে জেলা শহরের সবচেয়ে বড় স্থাপনা।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial