প্রধান সূচি

আজ কবি আহসান হাবীবের মৃত্যু বার্ষিকী

আধুনিক বাংলা কবিতার পথিকৃৎ কবি আহসান হাবীবের ৩৪তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ ১০ জুলাই। ১৯৮৫ সালের এই দিনে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। কিন্তু তার মৃত্যুর ৩৪ বছরেও নামমাত্র ফলক ছাড়া তেমন কিছুই নেই কবি আহসান হাবীবের নিজ জেলা পিরোজপুরে।
কবির জন্ম বা মৃত্যু দিবসে পালিত হয় না কোন কর্মসূচিও। তেমনি আজ কবি আহসান হাবীবের মৃত্যু বার্ষিকীতে কবি স্মরণে নেই কারও কোন কর্মসূচি।
১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পিরোজপুর সদর উপজেলার শঙ্করপাশা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন। কলেজের অধ্যয়নকালেই কলকাতার বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকায় তার কবিতা স্থান করে নেয় তখন থেকে কবি হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ।
এই কবি সাহিত্য চর্চার জন্য তিরিশের দশকেই কলকাতায় চলে যান। সেখানে দৈনিক তকবীর, মাসিক বুলবুল ও সওগাত পত্রিকায় কাজ করেনও তিনি। কলকাতার বিভিন্ন সাময়িকিতে নিয়মিত লিখতেন আহসান হাবীব। দেশভাগের পরও তিনি সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন। আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন আহসান হাবীব। ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ দরাত্রিশেষদ। ১৯৫০ সালে স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন।
দৈনিক আজাদ, মাসিক মোহাম্মদী, দৈনিক কৃষক, দৈনিক ইত্তেহাদ ও সাপ্তাহিক প্রবাহ পত্রিকায় সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৬৪ সাল থেকে দৈনিক পাকিস্তান ও পরে দৈনিক বাংলায় সহকারী সম্পাদক ও সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার হাতে সাহিত্যে অভিষেক ঘটেছে আজকের খ্যাতনামা প্রবীন কবি-সাহিত্যিকদের অনেকেরই।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমী ও একুশে পদকসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা। এ গুনী ব্যক্তির নিজ জেলা পিরোজপুর তার এ প্রাপ্তি স্বীকার শুধু একটিমাত্র ফলকেই সীমাবদ্ধ। নেই কোন সংগ্রহশালা, নেই কোন স্থাপনা এমনকি কবির নিজের বাড়িও যেন আজ পরিনত হয়েছে মাটির স্তুপে। অবহেলা আর উদাসীনতার নিদর্শন পাওয়া যায় কবির গ্রামের বাড়ি শংকর পাশার কাঁদামাটির সড়ক দেখে।
প্রশাসন আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এমন উদাসীনতায় অবাক কবি পরিবারের স্বজনরাও। স্থানীয় ও পিরোজপুরের সাংস্কৃতিক কর্মীদের দাবি যেন কবির স্মৃতি রক্ষার্থে অন্তত শহরের যে কোন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম বা স্থানের নাম করা হয় কবির নামে। আর তরুন প্রজন্মের প্রত্যশা কবির জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকীতে যেন কবির কবিতা আবৃত্তি ও স্মরণসভার আয়োজন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কবির কবিতা সংগ্রহ দিয়ে পিরোজপুরে তার নিজ গ্রাম শংকরপাশায় পাঠাগার ও জেলা শহরের যেকোন স্থানে করা হোক স্মৃতি সমাধির ভাষ্কর্য এমন দাবী করেছেন এলাকাবাসী।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial