পিরোজপুরে খনন করা হচ্ছে কঁচা নদী
চরখালী-টগড়া ফেরি আর আটকে থাকবেনা ডুবোচরে
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার চরখালী-টগরা ফেরিটি আর ডুবোচরে আটকে থাকবে না। এজন্য খনন করা হচ্ছে কঁচা নদী।
চরখালী-টগরা ফেরি পারাপার হয়ে ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা, আমুয়া, কাঠালিয়া, খুলনা, যশোর, বেনাপোলসহ দক্ষিণাঞ্চলের সাথে উত্তারঞ্চলের ১৩টি রুটের সড়ক পথে যানবাহন চলাচল করে। তবে কঁচা নদী ফেরী পারাপারে বড় বাঁধা ছিল কঁচা নদীর পিরোজপুরের টগরা অংশে জেগে উঠা ডুবোচর। কঁচা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে ডুবোচরে আটকে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। চরখালী-টগড়া ফেরি চলাচলে ভোগান্তির কোন শেষ ছিল না। এখানে নাব্যতা সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক নৌ-পথ থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ পড়েছে হুমকির মুখে। এই রুটে বাংলাদেশ-ভারত (অভ্যন্তরীণ) এবং খুলনা ও মংলার সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নৌ যোগাযোগ রয়েছে। ডুবোচরের কারণে এ পথে চলাচলকারী বিআইডব্লিউটিসির রকেট-ষ্টিমার, সরকারি ও বেসরকারি অয়েল ট্যাংকার, কোস্টার, কার্গো, নৌবাহিনীর জাহাজ ইত্যাদি চলাচলে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেন সাবেক মন্ত্রী, জাতীয়পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান পিরোজপুর-২ আসনের (ভান্ডারিয়া- কাউখালী-ইন্দুরকানী) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সাথে উত্তর অঞ্চলের মানুষের সড়ক যোগাযোগ, ব্যবসা-বানিজ্যসহ নানা ধরনের সুবিধার কথা বিবেচনা করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে কঁচা নদীর ডুবোচর খননের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে বরিশাল-ঝালকাঠি-ভান্ডারিয়া-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫৩ কিলোমিটারে কঁচা নদীর চরখালী-টগড়া পয়েন্টের উভয় পাশে অবস্থিত ডুবোচর খননের (ড্রেজিং) কাজ চলছে। বিআইডব্লিউটি এর ড্রেজিং ডিপার্টমেন্ট এ খনন কাজ করছে।
বিআইডব্লিউটি এর টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্ট (সিভিল) মিজানুর রহমান সোহেল জানান, কঁচা নদীর ৫০০ মিটার দীর্ঘ ও ২৩ মিটার চওড়া এলাকায় এই খনন কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখানে ৬৫ হাজার ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হবে, যা ২/১দিনের মধ্যে শেষ হবে।
গত প্রায় এক মাস ধরে খনন কাজ চলছে চরখালী-টগড়া ফেরি ঘাট সংলগ্ন এলাকায়। চরখালী-টগড়া ফেরির ইজারা আদায় কর্মী হায়দার আলী জানান, ডুবোচরের কারণে প্রায়ই ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়ে আসছিল। পন্য পরিবহনেও সমস্যার কোন শেষ ছিল না। অনেক সময় গাড়িসহ ফেরিগুলো ডুবোচরে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকতো। এমনকি এ্যাম্বুলেন্সে রোগীসহ ফেরি মাঝ নদীতে ঘন্টার পর ঘন্টা ডুবোচরে আটকে থাকায় রোগির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে এখানে। দীর্ঘ সময় নদীর উভয় প্রান্তে যানবাহনের লম্বা লাইন চোখে পড়াটাও ছিল স্বাভাবিক। বর্তমানে সে চিত্র আর নেই। নদী খননের কারণে এখন নিয়মিতভাবে ফেরি চলাচল করছে। নির্বিঘেœ যাত্রী সাধারণ পৌঁছে যাচ্ছে তাদের গন্তব্যে। সবার মাঝে এখন স্বস্তির নিশ্বাস।
পিরোজপুর জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক খোকন জানান, চরখালী-টগড়া ফেরিটি দক্ষিনাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু কঁচা নদীতে ডুবোচরের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি রুটের যানবাহন চলাচলে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বর্তমানে চরখালী-টগড়া ফেরিঘাট ব্যবহারকারী দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা, পাথরঘাটা, মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, কাঠালিয়াসহ দেশের বিভিন্ন রুটে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে আর সমস্যা হচ্ছে না।
চরখালী-টগড়া ফেরির চালক দেলোয়ার হোসেন জানান, কিছু দিন আগে, বিশেষত শুকনো মৌসুমে ভাটির সময় ফেরি বন্ধ করে রাখতে হয়েছে। প্রায়ই ফেরি আটকে যেত মাঝ নদীতে। ডুবোচরের কারণে ফেরি চালাতেই পারতাম না। নদী খননের ফলে এখন আর সমস্যা হচ্ছে না।
