নাজিরপুরে চাকুরির প্রলোভনে অর্থ নেয়ার অভিযোগ এনজিও’র বিরুদ্ধে
জেলার নাজিরপুরে রূপালী হেল্থ কেয়ার ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি এনজিও মোটা অংকের বেতনে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২৭ জন বেকার যুবক-যুবতির কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ জামানত নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে ওই প্রতিষ্ঠান জেলার অন্য উপজেলার সকল ইউনিয়ন থেকে জামানত সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে।
জেলা বা উপজেলায় কোন প্রকার অফিস ছাড়াই রাজধানীর ১০৭ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার খান ম্যানশনের ৯ম তলায় প্রধান কার্যালয় জানিয়ে উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের মৃত নিত্যনন্দ হালদারের ছেলে জ্যোতিষ চন্দ্র হালদার নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের জেলা ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে এ প্রতারণা শুরু করেছে।
বুধবার দুপুরে নাজিরপুর উপজেলা সদরের হোটেল গলির একটি কাপড়ের দোকানে লোকজনের ভিড় দেখে কৌতুহল বশত: সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানে মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগপত্র নেয়ার জন্য নাজিরপুরসহ জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে ৩৫ থেকে ৪০ জন যুবক-যুবতি জড়ো হয়েছে। তাদের এক একজনের কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুর রহমান খান কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি নিয়োগপত্র দেয়া হচ্ছে।
এ সময় কথা হয় জেলা সদরের কদমতলা এলাকা থেকে আসা চাকুরী প্রত্যাশী মৃত আ. সোবহানের ছেলে রাকিব হোসেনের সাথে। তিনি বলেন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে যোগাযোগ করলে তাকে নাজিরপুরে আসতে বলা হয়। এখানে এসে তিনি দেখেন চাকুরি জন্য একটা আবেদন ফরম তারা আগে থেকেই তৈরী করে রেখেছে। ওই ফরমে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে স্বাক্ষর দিয়ে নগদ ১০ হাজার টাকা জামানত দিলেই তারা মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগপত্র প্রদান করেন।
স্বরূপকাঠী উপজেলার গগণ এলাকা থেকে আসা চাকুরী প্রত্যাশী মৃত আতিকুল্লাহ’র ছেলে শাহনেওয়াজ জানান, তিনি তার এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পেরে বলদিয়া ইউনিয়নে মাঠকর্মী হিসেবে চাকুরীর জন্য এসেছেন। তার কাছেও জেলা ব্যবস্থাপক জ্যোতিষ চন্দ্র হালদার ১০ হাজার টাকা জামানত দাবী করেছেন।
উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের মুগারঝোর গ্রাম থেকে আসা মৃত. রুস্তুম আলীর ছেলে আবু হানিফ ও রাসেদুল ইসলাম জানান, তারা জেলা ব্যবস্থাপক জ্যোতিষ চন্দ্র হালদারকে ১০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেছেন। একটি এনজিও’র মাঠকর্মী হিসেবে চাকুরীর জন্য কেন ১০ হাজার টাকা জামানত দিলেন এমন প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, লেখাপড়া শেষ করে বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছি। শুনেছি তারা মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন দিবে। তাই বেকারত্বে অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে এ টাকা দিয়েছি। একই কথা বলেন এরকম চাকুরী প্রত্যাশী আরো অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন।
ওই প্রতিষ্ঠানের জেলা ব্যবস্থাপক হিসেবে দাবীদার জ্যোতিষ চন্দ্র হালদারের সাথে সার্বিক বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর কাজ করবে, দাতা সংস্থা তাদের অর্থের যোগান দিবে। এ জন্য তারা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য ৩জন করে মাঠকর্মী নিয়োগ করবে। তারা মুল বেতন ও টিএ, ডিএসহ মাসে ১০ হাজার টাকা পাবে। এ প্রকল্প ১০ বছরের জন্য কাজ করবে। প্রতি মাঠকর্মীর কাছে ১০ হাজার টাকা জামানত নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ওই টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে টাকা নেয়ার ব্যাপারে বৈধ কোন যুক্তি বা প্রমানাদি উপস্থাপন করতে পারেনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিদেশী ফান্ড ছাড়াতে অনেক খরচ, তাই হেড অফিসের নির্দেশে এ টাকা নেয়া হচ্ছে এবং সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সর্ম্পকে ইউএনওসহ ডিসি সাহেবকে অবগত করা হয়েছে।
ওই প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুর রহমান খাঁনের সাথে মুঠোফোনে কথা তিনি ফান্ড ছাড়াতে খরচের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সে জন্য জেলা ব্যবস্থাপক জ্যোতিষ চন্দ্র হালদার ব্যক্তিগতভাবে প্রতিষ্ঠানকে হেল্প করার কথা ছিলো। মাঠকর্মীদের কাছে জামানত নেয়ার কোন সুযোগ নেই, তাছাড়া বিষয়টি তার জানা নেই। সে রকম কিছু হলে তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোজী আকতারের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রূপালী হেল্থ কেয়ার ফাউন্ডেশন নামে কোন এনজিও’র কথা আমার জানা নেই। তবে তাদের কর্মকান্ড নিয়ে কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
