ভাঙ্গা সেতু
দুর্ভোগে ৫ গ্রামের মানুষ
পিরোজপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া গ্রামের উমেদপুর খালের আয়রণ সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার দুর্ভোগে পড়ছেন ৫ গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীসহ বাসিন্দা। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সেতুটির একাংশ ভেঙ্গে খালে পড়ে যায়। বর্তমানে একটি ছোট নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপার হচ্ছে শিক্ষার্থী ও লোকজন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া গ্রামের উমেদপুর খালের ওপর ৪৫ মিটার দৈর্ঘের এ আয়রণ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ৯ টার দিকে সেতুটি পার হওয়ার সময় হঠাৎ ভেঙ্গে খালে পড়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পূর্ব পাড়ে রয়েছে দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া গ্রাম। পশ্চিম পড়ে রয়েছে শংকরপাশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন পরিষদ। দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জহুরা একরাম মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থী সেতুটি দিয়ে যাতায়াত করতো। এছাড়া দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া গ্রামসহ পাশ্ববর্তী কালিকাঠী, বাদোখালী, হরিণা গাজীপুর, বাদুরা গ্রামের ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ সেতুটি দিয়ে চলাচল করতো। তারা জেলা সদর, হাসপাতাল, ইউনিয়ন পরিষদ ও হাট বাজারে যাওয়া-আসা করে। সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় তাদের চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় দোকানদার মো. ফারুক হোসেন বলেন, সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে সেতুটির মাঝ বরাবর দিয়ে ভেঙ্গে পড়ে। এ সময় ওবাইদুল হাওলাদার (৩৫) নামে এক ব্যক্তি আহতও হয়।
দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ওয়াসিমুল কবির (৯) জানায়, সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় এখন নৌকায় খাল পারাপার হতে হচ্ছে। নৌকায় বিদ্যালয় যেতে ভয় পাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার মসিদ বলেন, সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ে শিশুরা আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া গ্রামের রাসেল খন্দকার বলেন, সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমরা সমস্যায় পড়েছি। হাট বাজারে কৃষিপণ্য ও মালামাল নেওয়ার জন্য কয়েক কিলোমিটার ঘুরে ভ্যানে করে বাজারে যেতে হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার জানান, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততার জন্য লোহায় মরিচা পড়ে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে এ এলাকার সেতুগুলো। ভেঙ্গে যাওয়া আয়রণ সেতুটির জায়গায় নতুন করে গার্ডার সেতু নির্মাণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
