প্রধান সূচি

কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

৯ জন চিকিৎসকের স্থলে আছেন মাত্র ১ জন

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৯ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও আছেন মাত্র ১ জন চিকিৎসক। চিকিৎসা সেবা ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন তিনি।

শৈল্য চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি পরামর্শক না থাকায় হাসপাতালে জরুরি প্রসূতি সেবা দেয়া যাচ্ছে না। উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ৩টিতে চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে চিড়াপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসক ওসমান গণি এক বছর ধরে প্রেষণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন। আমরাজুড়ি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসক নাঈম ফেরদৌস ট্রেনিং এ রয়েছেন। মঠবাড়িয়া থেকে এক মাসের জন্য ডা. জহিরুল হককে কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেপুটেশনে আনা হয়।

অন্য দিকে, নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ ১০ বছর ধরে বন্ধ থাকায় হাসপাতালের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে। ৩১ শয্যায় মঞ্জুর করা ৯ জন চিকিৎসকের পদে শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কমর্রত আছেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা, ডেন্টাল সার্জন ও মেডিকেল অফিসারের দুটি পদ এবং শৈল্য, গাইনি, মেডিসিন, ও অ্যানেসথেসিয়া (অবেদনবিদ) বিভাগের কনিষ্ঠ পরামর্শকের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ছিদ্দিকুর রহমান একা চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ছিদ্দিকুর রহমানকে দাপ্তরিক কাজ, সভা-সেমিনারে বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। এসময় উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হয়।

হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে ২০০ রোগী বর্হিঃবিভাগে রোগী চিকিৎসা নেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ছিদ্দিকুর রহমান রোগীদের চিকিৎসা দেন। তাকে সহযোগিতা করছেন চারজন উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসক।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, তারা উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী নন। এ কারণে একমাত্র চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে দুই ঘন্টা অপেক্ষা করে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়েছে।

কাউখালী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আব্দুল লতিফ খসরু বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র ১ জন চিকিৎসক রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ডেন্টাল ও গাইনি চিকিৎসার জন্য রোগীদের পিরোজপুর ও বরিশাল যেতে হচ্ছে।

হাসপাতালের এক সেবিকা জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পিরোজপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করণের লক্ষে ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এতে হাসপাতালেরর বর্হিঃবিভাগের পেসেন্ট ডিপার্টমেন্ট দ্বিতল ভবন নির্মাণসহ চিকিৎসক-কর্মচারীদের জন্য দুইটি নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণ করার জন্য টাকা বরাদ্দ ছিল। ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট মেসার্স নুরী এন্টারপ্রাইজ নামে বরিশালের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। ওই কার্যাদেশের ১৮ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদার ২০ ভাগ কাজ করে ফেলে রাখে। নিদিষ্ট সময় কাজ শেষ না করায় ২০১৪ সালের ২৫ জুন নুরী এন্টারপ্রাইজের দরপত্রের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। এরপর আর নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নতুন একটি ভবন ও পিছনে চিকিৎসক-কর্মচারীদের দুটি পাকা ভবনের কাজ শেষ না করে ফেলে রাখা হয়েছে। কাজ ফেলে রাখায় রডগুলোতে মরিচা ও দেয়ালে শেওলা ধরেছে ধরে গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। সত্তর দশকে নির্মিত ভবনটি ১৫ বছর আগে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। সেখানে ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। ২০০৮ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করণের নতুন ভবনের কাজ শেষ না করে ঠিকাদার ফেলে রেখেছেন। চিকিৎসক সংকট ও ভবনের সমস্যার কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বারবার জানিয়েও কোন ফল পাচ্ছি না।

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ফারুক আলম বলেন, আমরা প্রতি মাসের প্রতিবেদনে চিকিৎসক সংকটের কথা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। হাসপাতালের পুরানো ভবন ভেঙে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রক্রিয়া চলছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial