অধ্যক্ষসহ দোষীদের শাস্তির দাবী
ইন্দুরকানীতে কামিল পরীক্ষা কেন্দ্র পুনঃবহালের দাবীতে মানববন্ধন
ইন্দুরকানীতে প্রবেশপত্র ছাড়া এক ফাজিল পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়ার অপরাধে কামিল কেন্দ্র বাতিল হওয়া কেন্দ্রটি পুনঃবহাল এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করেছে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসী।
গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার টগড়া দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন টগড়া-পাড়েরহাট-পিরোজপুর সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন।
এসময় কামিল পরীক্ষা কেন্দ্র বতিলের জন্য দায়ী অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেনসহ দোষীদের শাস্তি দাবী করে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা শাহজাহান হাওলাদার, অভিভাবক খলিলুর রহমান হাওলাদার।
মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. রাজ্জাক হাওলাদার, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ শাহ আলম, ছোহরাব হাওলাদারসহ অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
হঠাৎ করে ইন্দুরকানীর টগড়া দারুল ইসলাম কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রটি বাতিল করায় এ কেন্দ্রের ১২২ জন কামিল পরীক্ষার্থীকে কঁচা নদী পাড় হয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলার আল গাজ্জালী ইসলামীয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। কেন্দ্র বাতিল করায় অভিভাবকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইন্দুরকানীর কেন্দ্র বাতিল হওয়ায় পরীক্ষার্থীরা যাতায়াতের জন্য ভোগান্তিতে পড়েছে।
গত মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে একযোগে কামিল (স্নাতকোত্তর) ১ম ও ২য় বর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের ফাজিল ২য় বর্ষের পরীক্ষায় প্রাইভেট ভর্তির অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও উপজেলার টগড়া দারুল ইসলাম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন ইলিয়াছ নামে এক পরীক্ষার্থীকে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে ফরম পূরণ করান। কিন্তু তার প্রবেশপত্র না আশায় কেন্দ্র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন তার পরীক্ষা নেয় এবং ওএমআর ও উত্তরপত্র না পাঠিয়ে শুধু স্বাক্ষরলিপি বিশ^বিদ্যালয় পাঠান। এ অপরাধে ইসলামী আরবী বিশ^বিদ্যালয়ের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃংখলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টগড়া দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন হাওলাদারকে ফাজিল (স্নাতক) পাস এবং কামিল (স্নাতকোত্তর) পরীক্ষার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে আজীবনের জন্য অব্যহতি দেয়া হয়। একইসাথে জড়িত অন্য দুই প্রভাষক মো. ইউসুফ আলী ও সাইফুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী মো. মাহবুবুল আলমকে ইসলামী আরবী বিশ^বিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে আজীবনের জন্য অব্যহতি দেয়া হয়। এছাড়া টগড়া দারুল ইসলাম কামিল মাদরাসার কামিল ও ফাজিল পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল করা হয়।
