প্রধান সূচি

পিরোজপুরে আমনের ভালো ফলন

পিরোজপুরে চলতি মৌসুমে আমন ধানের ভালো ফলন হওয়ায় ও ধানের ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকেরা খুশি। এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমন চাষ ও উৎপাদন দুটিই বেশি হয়েছে। জেলায় ৮০ ভাগ খেতে ধান কাটা ও মাড়াই শেষ করেছে কৃষকেরা।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, আমন চাষের মৌসুমজুড়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আমনের ভালো ফলন পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাজারে কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। এ কারণে কৃষকেরা মুখে হাসি ফুটেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পিরোজপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবছর পিরোজপুর জেলায় ৬১ হাজার ৬৫৯ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ৬৪ হাজার ৬৪১ হেক্টার জমিতে। এর মধ্যে ৫৫ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন, ৯ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে উফশী আমন ও ৪৪১ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড আমন আবাদ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে হাইব্রিড আমন ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ১৭ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয়েছে ৫ দশমিক ৫২ মেট্রিক টন। হেক্টরে উফশী আমন ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ১৭ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয়েছে ৪ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন। স্থানীয় আমন ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয়েছে ২ দশমিক ৭০ মেট্রিক টন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কৃষকেরা বলেন, জুলাই-আগস্ট মাসে আমন ধানের বীজ রোপণ করা হয়েছে। ডিসেম্বর মাস থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। জানুয়ারি মাস জুড়ে ধান কাটা ও মাড়াই চলবে। বীজ রোপণ থেকে ধান কাটা পর্যন্ত আবহাওয়ায় অনুকূলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছর আমনের ভালো ফলন হলেও কৃষকেরা ভালো দাম পাননি। অনেকে উৎপাদন খরচও উঠাতে পারেননি। এবছর আমন (মোটা) ধান স্থানীয় বাজারে ৮৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা ও আমন (চিকন) ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত মৌসুম থেকে পিরোজপুরে হাইব্রিড জাতের আলোড়ন, হীরা, এসিআই, এগ্রোজ জাতের আমন ধান চাষ আবাদ শুরু হয়েছে। হাইব্রিড ধানের ফলন বেশি। এবছর প্রতি হেক্টরে ৫ দশমিক ৫২ মেট্রিক টন হাইব্রিড আমন ধান উৎপাদন হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে হাইব্রড আমন ধানের উৎপাদন খরচ পড়েছে গড়ে ৫৭ হাজার টাকা। হেক্টরে উৎপন্ন ধান বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন এক লাখ থেকে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা।

সরেজমিনে পিরোজপুর সদরের রাজারহাট ধানের হাটে কথা হয় ধান ব্যবসায়ী শহিদ সিকদারের সাথে। তিনি বলেন, এবছর ধানের দাম ভালো হওয়ায় কৃষকেরা খুশি।

পিরোজপুর সদর উপজেলার পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক সরোয়ার হোসেন খান বলেন, গত বছর ধানের মণ ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। তখন আমাদের উৎপাদন খরচ উঠানো যেত না। এবার ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে ধানের মণ বিক্রি করেছি। আমরা ধানের দাম পেয়ে খুশি।

মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় শৌলা গ্রামের কৃষক রনজিৎ সুতার (৫১) কৃষক বলেন, ধান চাষ করে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে সংসারের খরচ ও ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে। ধানের বর্তমান বাজার মূল্যে আমরা খুশি। তবে ধানের দাম যেন পড়ে না যায় সেদিকে সরকারের নজর রাখতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পিরোজপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু হেনা মোহাম্মদ জাফর বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীদের পরামর্শ অনুযায়ী কৃষকেরা সেচ, সার ও কীটনাশক ব্যবহার করায় আমর ধানের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি ও ধানের ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial