স্বাবলম্বি হতে হলে তৃণমূলে নারীদের সংগঠিত হতে হবে … তাসমিমা হোসেন
দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, তৃণমূলের নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বি হতে হলে সংগঠিত শক্তি নিয়ে আবির্ভূত হতে হবে। এ উদ্দেশ্যে পাড়া ও গ্রামে নারীদের সমিতি গঠন করে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করা জরুরী। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান-মেম্বরগণ এ ক্ষেত্রে পথ প্রদর্শকের ভূমিকা নিলে নারী উন্নয়ন আরও গতি পাবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সয়না-রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বেতকা নারী উন্নয়ন সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, নারীদের অংশ গ্রহণে গ্রামে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। এসব কর্মসূচি যেমন তাদের নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজে লাগানো যাবে তেমনি সমাজ উন্নয়নেও ব্যবহৃত হতে পারে। নারীরা আবহমান কাল থেকে নিজেদের প্রয়োজনে হাঁস-মুরগী পালন, হাতের কাজ, সেলাই ইত্যাদি সৌখিন কাজ করে আসছেন। আজকে তারা নিজেদের আত্মনির্ভরশীল করতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতা বাড়াতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
পেশাদারী দৃষ্টি ভঙ্গিতে বাটিক, কার্পেন্টার, শো-পিস তৈরীর মত নতুন নতুন হস্ত শিল্পে নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অর্থনেতিক উন্নয়ন ও নারী শিক্ষা অর্জনের বিকল্প নাই। শিক্ষার অভাব হচ্ছে নারী উন্নয়নের গোড়ার গলদ। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৭ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মহিলা সদস্যদের সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূলে নারীদের প্রথম সংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেন। ক্ষমতায়ন তথা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নারীরা আজ সমাজের নানা স্তরে অনেক বেশী প্রতিষ্ঠিত। ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে খাল খনন করে মাছ চাষ, পরিবেশ রক্ষার জন্য গাছ লাগানো, বিশুদ্ধ পানি পান নিশ্চিত করে শিশুদের ডায়রিয়া রোধ, স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার ইত্যাদি কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি জলাভূমি ব্যবহার করে মাছ চাষ করা যায়। পালনকৃত হাঁস-মুরগী-ডিম, উৎপাদিত মাছ, চাষকৃত শাকসবজি বাজারজাতকরণের সুবিধা বাড়তে হবে। মনে রাখতে হবে শুধু কথায় নয় পরিশ্রম করে কাজের মধ্যদিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বি করে তুলতে হবে। গ্রামে নানাভাবে সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধির জন্য স্কুল-ক্লাব-সমিতি ভিত্তিক উদ্যোগ নিতে তরুণ-যুবক-নারীদের এগিয়ে আসা উচিত। কাউখালী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বেতকায় আয়োজিত এ আলোচনা সভায় বেবী বেগমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সয়না-রঘুনাথপুরের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, পিরোজপুর জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য শাহজাদী রেবেকা শাহীন চৈতী, কাউখালীর বিশিষ্ট সমাজ সেবক আব্দুল লতিফ খসরু ও প্রাথমিক শিক্ষক নাজমা বেগম। এ সময় তাসমিমা হোসেনের সফর সঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা থেকে আগত বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা আফরোজা হুদা, ভান্ডারিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্যা রোকেয়া বেগম প্রমুখ। এ সময় স্থানীয় দুঃস্থ মানুষের মাঝে তিনি শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেন।
ভান্ডারিয়া সংবাদদাতা জানান, তাসমিমা হোসেন গতকাল শনিবার সকালে ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর ভিটাবাড়িয়ায় বাইতুল ফালাহ নূরানী কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় যান এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এসময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম পান্না, ইউনিয়ন জেপি’র সাধারণ সম্পাদক রেজা আহমেদ দুলালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।
