মন্দির ভাংচুরের মামলা
পিরোজপুরে ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে
পিরোজপুর সদর উপজেলার সিকদার মল্লিক ইউনিয়ন পরিষেদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শহিদুল ইসলাম শহীদকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের একটি কালী মন্দির ভাংচুরের মামলায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ পিরোজপুর জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানালে আদালতের বিচারক আব্দুল মান্নান তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পিরোজপুর জেলা জজ আদালতের পিপি খান মো. আলাউদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর গভীর রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের পাঁচপাড়া বাজারে থাকা একটি কালি মন্দির দুর্বৃত্তরা ভাংচুর করে। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী টের পেয়ে প্রতিরোধ করতে এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের উপর হামলা করে। হামলায় গৌরাঙ্গ লাল মজুমদার (৬০), সুখ রঞ্জন মন্ডল (৪০) ও দিলীপ মৃধা (৩৮) আহত হন।
এ ঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র মিস্ত্রী বাদি হয়ে ঘটনার পরদিন সিকদার মল্লিক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শহিদুল ইসলাম শহীদকে প্রধান আসামী করে ১১জন নামীয় ও অজ্ঞাত আরো ৩০/৩৫জনকে আসামি করে পিরোজপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলামের আইনজীবী ফাতেমা বেগম লাকি জানান, মামলায় আসামী হওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম শহীদ গত ১৪ অক্টোবর হাইকোর্ট থেকে পুলিশ রিপোর্ট না দেয়া পর্যন্ত পর্যন্ত জামিন পান। এরপর মামলার বাদী পক্ষ এ জামিন বাতিলের জন্য সুপ্রীম কোর্টে আবেদন করেন। সুপ্রীম কোর্টের ৭ জনের একটি পুনাঙ্গ বেঞ্চ শহীদুল ইসলাম শহীদকে ৮ সপ্তাহের জামিন দিয়ে পিরোজপুর জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেয়ার নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার পিরোজপুর জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জামিন আবেদন করলে আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মান্নান মামলার জামিন শুনানী শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
