প্রধান সূচি

ঘূর্ণিঝড় সিডরের ১১ বছর

মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদ তীরের ক্ষেতাছিড়ার বেড়িবাঁধ এখনও বিধ্বস্ত ॥ গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র

ঘূর্ণিঝড় সিডরের ১১ বছর পার হলেও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদ তীরবর্তী সাপলেজা ইউনিয়নের ক্ষেতাছিড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ আজও সংস্কার হয়নি। সিডরে ক্ষেতাছিড়ার বেড়িবাঁধ ভেঙে সাপলেজা ইউনিয়নে ৮৬ জন মানুষের প্রাণহানী ঘটে। এর মধ্যে ক্ষেতাছিড়া গ্রামের জেলে পল্লীতেই নিহত হন ৫৪ জন মানুষ। ঘূর্ণিঝড় সিডরে বিধ্বস্ত যে বেড়িবাঁধের কারণে জলোচ্ছ্বাসে মানুষ বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। সিডরের এগার বছরে দুর্গত মানুষেরা কিছুটা ঘুরে দাড়ালেও ক্ষেতাছিড়া মোহনার বেড়িবাধ আজও বিধ্বস্ত।

ক্ষেতাছিড়া গ্রামের সিডরে স্বজন হারা জেলে খলিল শরীফ জানান, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরের ভয়াল রাতে ক্ষেতাছিড়া গ্রামের বলেশ^র নদ মোহনায় প্রথম জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে। মুহূর্তেই বেড়িবাঁধ বাঁধ ভেঙ্গে ভাসিয়ে নেয় পুরো গ্রাম। ভয়ালতার রাতে তার পরিবারের ৭ জন জন সদস্যসহ পুরো গ্রামে ৫৪ জন মানুষের প্রাণহানী ঘটে। সেই রাতে জেলে খলিল শরীফ গাছ আকড়ে বেঁচে থাকলেও তার পরিবারের ৭ সদস্য নিহত হন।

বৃদ্ধা মা আলেয়া বেগম, স্ত্রী রওশন আরা, মেয়ে কারিমা, তিন নাতি সোনিয়া (৮) ও সিদ্দিক (৫), মিরাজ (৩) ও ভাই জলিল শরীফের স্ত্রী তাছলিমা বেগম নিহত হন। নিহতদের ক্ষেতাছিড়া বেড়িবাঁধের পাড়ে গণকবর দেয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে মঠবাড়িয়া উপজেলা সদর হতে ১৯ কিলোমিটার দূরে সাপলেজা ইউনিয়নের বলেশ^র নদ তীরের সিডরের উৎসমুখ ক্ষেতাছিড়া গ্রাম পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সিডরের জ্বলোচ্ছাসের ক্ষত নিয়ে বিধ্বস্ত কোন মতে টিকে আছে বাঁধ। বাবুরহাট থেকে ক্ষেতাছিড়া হয়ে কচুবাড়িয়া পর্যন্ত নদী তীরের প্রায় চার কিলোমিটার বাঁধ এখনও বিধ্বস্ত। ক্ষেতাছিড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে হাজিগঞ্জ বাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটার বিপর্যস্ত সড়কটি আজও পাকা হয়নি। জেলে অধ্যুষিত এ গ্রামের মানুষের বাঁধ ধসের আতংক আজও কাটেনি।

৯৬ নম্বর ক্ষেতাছিড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশীদ মোল্লা বলেন, সিডরের পর ক্ষেতাছিড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বিধবস্ত হলে সিডর পরবর্তী স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়। তবে ছোট ও অপরিসর এ সাইক্লোন শেল্টারে ২০০ মানুষের বেশী আশ্রয় নিতে পারেনা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৩ সালে বেরিবাধ ও ব্লক নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। তমা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজ বাস্তবায়ন করছে। ১৬ সালের জানুয়ারী মাসে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে।

ক্ষেতাছিড়া গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন বলেন, বাবুর হাট থেকে ক্ষেতাছিড়া বাঁধের সাড়ে তিন কিলোমিটারে বিধ্বস্ত বাঁধের বাইরে এখনও ৪৫০ জেলে পরিবারের বসতি। তাদের অনেকেরই বসতির জমি নেই। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাঁধে মাটি ভরাট আর কিছু অংশে দায়সারা ব্লক নির্মাণ কাজ চলছে। তবে তা জ্বলোচ্ছাসের দুর্যোগ ঠেকাতে কোন কাজে আসবেনা ক্ষেতাছিড়ার দুর্গত মানুষদের।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়ার ক্ষেতাছিড়ায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ১৮০০ মিটার ব্লক নির্মাণের কাজ চলছে। বেড়িবাঁধের পাড়ের বসতি সরিয়ে না নেয়ায় আপাতত বাঁধে মাটি ভরাটের কাজ থমকে আছে। কাজটি সম্পন্ন হলে জ্বলোচ্ছাসের কবল হতে ক্ষোতাছিড়ার মানুষ রক্ষা পাবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial